ভাষা ও বাংলা ভাষারীতি
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ০ | ১ | ১ | ১৩তম | ৩ | ১ | ১ | ৮ম | ৩ | ২ | ০ |
| ১৭তম | ৩ | ১ | ২ | ১২তম | ৩ | ২ | ১ | ৭ম | ৩ | ১ | ০ |
| ১৬তম | ০ | ০ | ১ | ১১তম | ২ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ২ | ৩ | ০ |
| ১৫তম | ৩ | ১ | ১ | ১০ম | ৩ | ১ | ০ | বিশেষ | ০ | ৩ | ০ |
| ১৪তম | ২ | ২ | ১ | ৯ম | ৭ | ২ | ০ | মোট | ৩৪ | ২২ | ১০ |
কলেজ পর্যায়
১. বাংলা ভাষার মূল উৎস কী? [১৭তম বিসিএস (কলেজ): ২০২২]
(ক) হিন্দি ভাষা
(খ) বৈদিক ভাষা
(গ) ওড়িয়া
(ঘ) অনার্য ভাষা
উঃ খ
ব্যাখ্যা: অসমীয়াকে বাদ দিলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের পূর্বদিকের সবচেয়ে প্রান্তিক ভাষা বাংলা। নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। বর্তমান বাংলাদেশে বাংলা প্রায় একমাত্র এবং ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহৃত প্রধান ভাষা। এর পশ্চিমে ওড়িয়া, মাগধী, মৈথিলি এবং পূর্বে অসমীয়া ভাষার সীমান্ত।
এছাড়া সাঁওতালি, মুন্ডারি, খাসি ইত্যাদি অস্ট্রিক গোত্রের ভাষা এবং কাছারি, বোড়ো, গারো, ত্রিপুরী ইত্যাদি ভোট-বর্মী গোত্রের ভাষাও বাংলাকে ঘিরে রেখেছে, কখনও বা তার অঞ্চলে প্রবিষ্টও হচ্ছে।
ইতিহাস মাগধী প্রাকৃতের (খ্রি. পূ ৬০০- খ্রি. ৬০০) পরবর্তী স্তর মাগধী অপভ্রংশ এবং তৎপরবর্তী স্তর অবহট্ঠের মধ্য দিয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ স্বাধীন নব্যভারতীয় আর্যভাষারূপে বাংলার উদ্ভব হয়। আর্যদের মুখের ভাষা ছিল বৈদিক ভাষা একে আর্য ভাষাও বলা হয়।
অতএব অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হচ্ছে— বৈদিক ভাষা।
২. সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়? [১৭তম বিসিএস (কলেজ): ২০২২, ১৫তম বিসিএস (কলেজ): ২০১৮, ৭ম বিসিএস (কলেজ): ২০১১]
(ক) অব্যয়
(খ) সম্বোধন পদ
(গ) সর্বনাম
(ঘ) ক্রিয়া
উঃ ক
ব্যাখ্যা: ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
অব্যয় পদের বৈশিষ্ট্য:
অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না।
অব্যয় শব্দের একবচন বা বহুবচন হয় না।
অব্যয় শব্দের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি: ২০১৯ সংস্করণ)।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয়-কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
৩. ভাষার কোন রীতি তৎসম শব্দবহুল? [১৭তম বিসিএস (কলেজ): ২০২২]
(ক) সাধুরীতি
(খ) চলিতরীতি
(গ) কথ্যরীতি
(ঘ) লেখ্যরীতি
উঃ ক
ব্যাখ্যা: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
বাংলা ভাষার সাধু রীতির কিছু বৈশিষ্ট্য:
বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪. প্রাকৃত শব্দের ভাষাগত অর্থ— [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮] (ক) মূর্খদের ভাষা
(খ) পণ্ডিতদের ভাষা
(গ) জনগণের ভাষা
(ঘ) লেখকদের ভাষা
উ. গ > ব্যাখ্যা: প্রাকৃত মধ্যভারতীয় আর্যভাষা। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা বৈদিক বা সংস্কৃত থেকে এর উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। সংস্কৃত ভাষার যে রূপটি ছিল সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, তা এক সময় শিথিল ও সরল হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ ধারণ করে। কালক্রমে এগুলোকেই বলা হয় প্রাকৃত ভাষা।
প্রাকৃত ভাষার নামকরণ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন যে, এর প্রকৃতি বা মূল হচ্ছে 'সংস্কৃত', তাই প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে এর নাম হয়েছে প্রাকৃত।
আবার কেউ কেউ বলেন, 'প্রকৃতি' অর্থ সাধারণ জনগণ এবং তাদের ব্যবহৃত ভাষাই প্রাকৃত ভাষা, অর্থাৎ প্রাকৃত জনের ভাষা প্রাকৃত ভাষা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫. গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছেন— [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮] (ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(খ) রামরাম বসু
(গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
(ঘ) রাজা রামমোহন রায়
উ. ঘ > ব্যাখ্যা: গৌড়ীয় ব্যাকরণ (১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) রচনা করেছেন রাজা রামমোহন রায়। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ এবং বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ। এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি) এবং বাংলাপিডিয়া।
৬. 'ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭] (ক) ধ্বনিতত্ত্বে
(খ) রূপতত্ত্বে
(গ) বাক্যতত্ত্বে
(ঘ) অর্থতত্ত্বে
উ. খ > ব্যাখ্যা: ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়। যথা: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।
| তত্ত্ব | আলোচ্য বিষয় |
|---|---|
| ধ্বনিতত্ত্ব | ধ্বনি, বর্ণ, ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি ইত্যাদি। |
| রূপতত্ত্ব | শব্দগঠন, প্রত্যয়, উপসর্গ, পদপরিচয়, ক্রিয়া, লিঙ্গ, পুরুষ, বচন, শব্দ ও ধাতুরূপ, সমাস প্রভৃতি। |
| অর্থতত্ত্ব | বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি। |
| বাক্যতত্ত্ব | বাক্যে রূপান্তর, বাচ্য, উক্তি, কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি। |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৭. প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণগ্রন্থ কে লেখেন? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭] (ক) রামমোহন রায়
(খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হালহেড
(গ) উইলিয়াম কেরি
(ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উ. খ > ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থের রচয়িতা নাথানিয়েল ব্রাসি হালহেড। তাঁর রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজি ভাষায় রচিত। তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এটির কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।
মনে রাখতে হবে, > * প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন (পর্তুগিজ ভাষায়)— মনোজল দা আসসুম্পসাঁউ (ভোকাভুলারিও এম ইদিওমা বেঙ্গলা ই পর্তুগিজ)।
প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন (মূলত ইংরেজি ভাষায়)— নাথানিয়েল ব্রাসি হালহেড (এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ)।
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়)— গৌড়ীয় ব্যাকরণ (রামমোহন রায়)।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম) এবং বাংলাপিডিয়া।
৮. বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে এসেছে? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬] (ক) সংস্কৃত
(খ) গৌড়ীয় প্রাকৃত
(গ) হিন্দি
(ঘ) আসামি
উ. খ > ব্যাখ্যা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।
খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি।
আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ী প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)।
৯. বাংলা ভাষারীতির কয়টি রূপ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬] (ক) ২ট
(খ) ৩টি
(গ) ৫টি
(ঘ) ৪টি
উ. ক > ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ- ২টি। যথা:
ক. লেখ্য
খ. মৌখিক
কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ— ৪টি। যথা:
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. অর্থ
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)।
১০. 'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬] (ক) চলিত
(খ) সাধু
(গ) প্রাকৃত
(ঘ) কোল
উ. খ > ব্যাখ্যা: 'অদ্য' (ক্রিয়াবিশেষণ) শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ। শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত যার অর্থ— আজ, সম্প্রতি, এখন।
সাধু রীতি : দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।
সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: > ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর; যেমন— 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে; যেমন— তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১১. বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব অংশে কোন বিষয়টি আলোচনা করা হয়? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫] (ক) সন্ধি
(খ) সমাস
(গ) কারক
(ঘ) প্রত্যয়
উ. ক > ব্যাখ্যা: 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়। যথা— ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ— ধ্বনি, বর্ণ, ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১২. ব্যুৎপত্তিগতভাবে ব্যাকরণ শব্দের অর্থ হলো— [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫] (ক) বিশেষভাবে সংশোধন
(খ) বিশেষভাবে পরিমার্জন
(গ) বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
(ঘ) বিশেষভাবে সংশ্লেষণ
উ. গ > ব্যাখ্যা: ব্যাকরণ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— বিশেষভাবে বিশ্লেষণ। আর ব্যবহারগত বা প্রকৃত অর্থ হলো— ভাষা প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা।
সুতরাং, বলা যায়— মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, আর ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বুঝতে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মকে ব্যাকরণ বলে।
ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান।
ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে।
ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সাধন/আবিষ্কার করে।
ব্যাকরণ ভাষার সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৩. ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়— [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫] (ক) চলিত ভাষারীতিতে
(খ) সাধু ভাষারীতিতে
(গ) সমাজ উপভাষায়
(ঘ) আঞ্চলিক উপভাষায়
উ. খ > ব্যাখ্যা: ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় সাধু ভাষারীতিতে।
সাধু রীতি : দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৪. ভাষার মূল উপকরণ কী? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪] (ক) বাক্য
(খ) ধ্বনি
(গ) শব্দ
(ঘ) বর্ণ
উ. ক > ব্যাখ্যা: ভাষার মূল উপকরণ— বাক্য।
ভাষার মূল ভিত্তি— ধ্বনি।
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক/মূল উপাদান— ধ্বনি।
ভাষার প্রাণ— অর্থবোধক বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (সপ্তম শ্রেণি), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৫. জুতো শব্দটি কোন ভাষারীতির? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪] (ক) সাধু
(খ) চলিত
(গ) প্রাকৃত
(ঘ) কোল
উ. খ > ব্যাখ্যা: 'জুতো' চলিত ভাষারীতির শব্দ। এর সাধুরূপ— জুতা।
সাধু রীতি:
বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ।
সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
চলিত রীতি:
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে— চলিতরীতি/চলনরীতি।
চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৬. ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনামলে রাজভাষা ছিল— [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪] (ক) বাংলা
(খ) সংস্কৃত
(গ) আরবি
(ঘ) ফারসি
উ. ঘ > ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার উদ্ভবের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে বিভিন্ন পর্যায় ও সূত্রের প্রভাবে।
সেগুলো হলো: > ক) প্রাচীন বাংলার ভাষারূপের সঙ্গে কিছু সংস্কৃত প্রভাব প্রথম থেকেই যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। কারণ খ্রিষ্টীয় অব্দের প্রথম থেকেই সংস্কৃত ভাষা ছিল প্রায় সমগ্র ভারতের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার বাহন। [পালি ও অর্থমগধী ছিল যথাক্রমে বৌদ্ধ ও জৈনদের নিজ নিজ ধর্মীয় আলোচনা ও সংস্কৃতির বাহন।] প্রাচীন বাংলার যুগে বাংলাভাষী অনেকেই কাব্যচর্চা করতেন সংস্কৃতে। ভারতের ইন্দো-আর্য ভাষা যখন প্রাচীন ও মধ্যস্তর উত্তীর্ণ হয়ে আধুনিক স্তরে পৌঁছায়, তখন বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর প্রভাব সত্ত্বেও [পাল রাজত্বে গৌড় সাম্রাজ্যের পতন সত্ত্বেও] সুপ্রসিদ্ধ বাঙালি কবিগণ (জয়দেব, উমাপতিধর, গোবর্ধন আচার্য প্রমুখ) সংস্কৃতেই কাব্য রচনা করেছেন। ফলে প্রাচীন যুগ থেকে তৎসম ও অন্যান্য প্রভাব বাংলায় এসে গেছে;
খ) ১৩শ শতকে বঙ্গদেশে মুসলিম শাসনের পর থেকে আরবি-ফারসি ও তুর্কি ভাষার প্রভাব বাংলায় পড়তে শুরু করে;
গ) ১৪শ/১৫শ শতকে মুসলিম শাসনামলে ফারসি রাজভাষা হওয়ায় এবং এর বিশেষ মর্যাদার কারণে, সেই সঙ্গে এই ভাষা-সম্পৃক্ত সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলায় স্থান পায় প্রচুর বিদায়ী শব্দ;
ঘ) আবার একই সঙ্গে মুসলমান শাসকগণ 'জবান-এ-বাংলা'র সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করার ফলে তৎকালীন পণ্ডিতদের কথিত 'গৌড় ভাষার' শ্রীবৃদ্ধি ঘটে, অর্থাৎ বাংলায় তৎসম শব্দের ব্যবহার বেড়ে যায়;
ঙ) ১৬শ শতকে পর্তুগিজদের আনীত শব্দাবলি বাংলায় অন্তর্ভুক্ত হতে শুরু করে [আনারস, আতা, তামাক ইত্যাদি]। (সংক্ষেপিত)
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব— [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪] (ক) সংস্কৃত থেকে
(খ) গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে
(গ) মাগধী প্রাকৃত থেকে
(ঘ) মৈথিলি থেকে
উ. খ > ব্যাখ্যা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।
খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি।
আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ী প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬五十 খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৮. কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য? [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪] (ক) গাম্ভীর্য
(খ) প্রমিত উচ্চারণ
(গ) তৎসম শব্দের বহুল ব্যবহার
(ঘ) ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে
উ. খ > ব্যাখ্যা: বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতির নতুন নাম হয় 'প্রমিত রীতি'। এটি 'মান রীতি' নামেও পরিচিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৯. চলিত ভাষায় নিচের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) অনুসর্গ
(খ) বিশেষ্য
(গ) অব্যয়
(ঘ) উপসর্গ
উ. ক > ব্যাখ্যা: চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়। এবং অনুসর্গ অব্যয় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া থেকে সৃষ্টি হওয়ায় চলিত ভাষায় অনুসর্গের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়।
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য: > * চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২০. 'বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে'—এ মতের প্রবক্তা কে? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
(খ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
(গ) ড. সুকুমার সেন
(ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উ. ক > ব্যাখ্যা: উনিশ শতকের শেষের দিকে পণ্ডিত জর্জ গ্রিয়ারসন তাঁর একটি প্রবন্ধে বলেছেন— 'মাগধী প্রাকৃত' নামক ভারতীয় উপভাষার পূর্বাঞ্চলীয় বিশেষ এক রূপ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
তবে, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মাগধী অপভ্রংশ মেনে নেন বাংলার উৎস ভাষা হিসেবে।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃত জনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি— গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২১. কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) অর্থদ্যোতকতা
(খ) ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
(গ) মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি
(ঘ) জনসমাজে ব্যবহার যোগ্যতা
উ. খ > ব্যাখ্যা: ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়— ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি।
ভাষা হলো ভাবের উৎস, ভাবের উচ্চারণ, মনের ভাব প্রকাশের উৎস/মাধ্যম/বাহন, মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক্ সংকেত।
উৎস: ভাষা শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২২. 'কিয়ৎক্ষণ' শব্দের সঠিক চলিত রূপ কোনটি? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) কিছুক্ষণ
(খ) কিছু সময়
(গ) কয়েকক্ষণ
(ঘ) কয়েক মুহূর্ত
উ. ক > ব্যাখ্যা: কিয়ৎক্ষণ এর চলিত রূপ- 'কিছুক্ষণ'।
বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে। যথা:
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা
সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়। যেমন- 'বলিলেন' এর চলিত রূপ— 'বললেন' এবং 'বলিয়াছিলেন' এর চলিত রূপ— 'বলেছেন'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৩. চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়— [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) সহজবোধ্যতা
(খ) ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য
(গ) ভদ্র সমাজে ব্যবহারোপযোগিতা
(ঘ) সংস্কৃত শব্দের বহু ব্যবহার
উ. ঘ > ব্যাখ্যা: চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়— সংস্কৃত শব্দের বহু ব্যবহার। এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৪. 'এই রূপ সাদৃশ্য অনেক চক্ষে পড়িবে'—এর চলিত রূপ লিখুন। [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) এইরূপ সাদৃশ্য অনেকগুলো চোখে পড়বে
(খ) এ রকম সাদৃশ্য অনেক চোখে পড়বে
(গ) এইরকম সাদৃশ্য অনেকগুলো চোখে পড়বে
(ঘ) এ রকম সাদৃশ্য অনেকগুলো চক্ষে পড়বে
উ. খ > ব্যাখ্যা: প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যের চলিত রূপ হলো— এ রকম সাদৃশ্য অনেক চোখে পড়বে। বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে চলিতরীতি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৫. চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয়— [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩] (ক) সাধু ভাষা
(খ) প্রমিত ভাষা
(গ) আঞ্চলিক ভাষা
(ঘ) উপভাষা
উ. খ > ব্যাখ্যা: লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হলো চর্যাপদ। প্রায় এক হাজার বছর আগে এটি বাংলা ভাষার কাব্যিক লেখ্যরীতিতে রচিত হয়। সময়ের প্রয়োজনে এবং ব্যবহারিক চাহিদার কারণে ধীরে ধীরে বাংলা ভাষায় লেখ্য গদ্য রীতির বিকাশ ঘটে। উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতির ভিত্তিতে সাধু ভাষারীতি গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে বিশ শতকের শুরুতে সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত ভাষারীতি ক্রমে জনপ্রিয়তা লাভ করে। একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি পরিশীলিত ও মান্য রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়। বর্তমানে এই প্রমিত রীতিই বাংলা লেখ্য ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য ও স্বীকৃত লিখিত রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২৬. 'সাধু ভাষা' পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন— [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২] (ক) রাজা মনি মোহন রায়
(খ) রাজা রামমোহন রায়
(গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(ঘ) অক্ষয় কুমার দত্ত
উ. খ > ব্যাখ্যা: ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনের গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।
সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন রাজা রামমোহন রায়।
সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, "সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকায় বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।"
"সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।" — ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুকরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে।' — ডক্টর মুহাম্মদ এনামুল হক।
বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তোলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।
উৎস: ভাষা শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (সপ্তম শ্রেণি)।
২৭. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২] (ক) মাগধী প্রাকৃত
(খ) গৌড়ীয় প্রাকৃত
(গ) মহারাষ্ট্রীয় প্রাকৃত
(ঘ) অর্ধ মাগধী প্রাকৃত
উ. খ > ব্যাখ্যা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।
খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি।
আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৮. ভাষার মূল উপকরণ কী? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২] (ক) ধ্বনি
(খ) বাক্য
(গ) শব্দ
(ঘ) বর্ণ
উ. খ > ব্যাখ্যা: ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ- 'বাক্য'।
ভাষার মূল উপাদান/ক্ষুদ্রতম একক- 'ধ্বনি'।
শব্দের গঠনগত একক- 'বর্ণ'।
ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন- 'বর্ণ'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি)।
২৯. বাংলা ভাষা কোন মূল ভাষার অন্তর্গত? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১] (ক) দ্রাবিড়
(খ) ইন্দো-ইউরোপীয়
(গ) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়
(ঘ) ইউরালীয
উ. খ > ব্যাখ্যা: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের পূর্বদিকের সবচেয়ে প্রান্তিক ভাষা বাংলা।
নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। বর্তমান বাংলাদেশে বাংলা প্রায় একমাত্র এবং ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহৃত প্রধান ভাষা। এর পশ্চিমে ওড়িয়া, মাগধী, মৈথিলি এবং পূর্বে অসমিয়া ভাষার সীমান্ত।
এছাড়া সাঁওতালি, মুণ্ডারি, খাসি ইত্যাদি অস্ট্রিক গোত্রের ভাষা এবং কাছারি, বোড়ো, গারো, ত্রিপুরী ইত্যাদি ভোট-বর্মী গোত্রের ভাষাও বাংলাকে ঘিরে রেখেছে, কখনও বা তার অঞ্চলে প্রবিষ্টও হয়েছে।
ইতিহাস মাগধী প্রাকৃতের (খ্রি. পু. ৬০০-খ্রি. ৬০০) পরবর্তী স্তর মাগধী অপভ্রংশ এবং তৎপরবর্তী স্তর অবহট্ঠের মধ্য দিয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ স্বাধীন নব্যভারতীয় আর্যভাষারূপে বাংলার উদ্ভব হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) ও বাংলাপিডিয়া।
৩০. কোনটি সাধুরীতিরি শব্দ নয়? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১] (ক) আজ
(খ) মিনতি
(গ) জল
(ঘ) জোছনা
উ. ব্যাখ্যা দেখুন > ব্যাখ্যা: 'জোছনা' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ জ্যোস্নো।
অন্যদিকে,
'আজ' শব্দটিও চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ অদ্য/আজি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৩১. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০] (ক) অসমীয়া
(খ) হিন্দি
(গ) বঙ্গকামরূপী
(ঘ) সংস্কৃত
উ. গ > ব্যাখ্যা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। কিন্তু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরি। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মতে, গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩২. ভাষার কোন রীতি পরিবর্তনশীল? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০] (ক) সাধুরীতি
(খ) চলিতরীতি
(গ) কথ্যরীতি
(ঘ) লেখ্যরীতি
উ. খ > ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে— চলিতরীতি/চলনরীতি। চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)। ---
স্কুল পর্যায়
৩৩. কোনটি চলিত ভাষার নিজস্ব বিশেষ বৈশিষ্ট্য? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪] (ক) তৎসম শব্দের বহুলতা
(খ) তদ্ভব শব্দের বহুলতা
(গ) প্রাচীনতা
(ঘ) অমার্জিততা
উ. খ > ব্যাখ্যা: চলিত ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য তদ্ভব শব্দের বহুলতা।
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য: > * চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য: > * সাধু বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ।
সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ।
সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)। ---
৩৪. সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য— [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২] (ক) বাক্যের গঠন প্রক্রিয়ায়
(খ) ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের রূপগত ভিন্নতায়
(গ) শব্দের কথ্য ও লেখ্য রূপের ভিন্নতায়
(ঘ) ভাষার জটিলতা ও প্রাঞ্জলতায়
উ. খ > ব্যাখ্যা: সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। তাছাড়াও, সাধু ভাষা তৎসম শব্দ বেশি আর চলিত ভাষায় অতৎসম শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)। ---
৩৫. নিচের কোন শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮] (ক) শুকনো
(খ) সাথে
(গ) জুতা
(ঘ) বুনো
উ. গ > ব্যাখ্যা: 'জুতা' শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী। 'জুতা' এর চলিত রূপ— জুতো।
সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। সাধুরীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী। এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
অন্যদিকে, > * শুকনো এর সাধু রূপ— শুকনা/শুষ্ক।
বুনো এর সাধু রূপ— বন্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)। ---
৩৬. সাধুরীতিতে কোন পদটি দীর্ঘরূপ হয় না? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭] (ক) বিশেষ্য
(খ) অব্যয়
(গ) সর্বনাম
(ঘ) ক্রিয়া
উ. খ > ব্যাখ্যা: ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)। > উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ---
৩৭. নিচের কোনটিতে সাধুভাষা সাধারণত অনুপযোগী? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭] (ক) কবিতায়
(খ) গানে
(গ) ছোটগল্পে
(ঘ) নাটকে
উ. ঘ > ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য: > * বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী। > * এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)। ---
৩৮. আলালি বা হুতোমি ভাষা বলা হয় কোন ভাষাকে? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬] (ক) সাধু
(খ) চলিত
(গ) ইংরেজি
(ঘ) সংস্কৃত
উ. খ
ব্যাখ্যা : চলিত ভাষাকে আলালী বা হুতোমী ভাষা বলা হয়। প্যারীচাঁদদের অনুসরণে বাংলা ভাষাকে আরও গণমুখী করেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন এলাকার মৌখিক ভাষাকে তিনি সার্থকভাবে তাঁর রচনায় প্রয়োগ করেন।
তাঁর ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ (১৮৬২) উপন্যাসে ব্যবহৃত ভাষারীতি প্যারীচাঁদের ভাষার চেয়ে মার্জিততর।
এ গ্রন্থে চলিত ভাষায় সরস ব্যঙ্গবিদ্রূপের মাধ্যমে কলকাতার সমাজজীবন চিত্রিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁর ভাষা ‘হুতোমি ভাষা’ নামে পরিচিত, যা পরবর্তী শতকের গদ্যরচনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।
প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্যরীতিতে গদ্য-পদ্য রচনা, প্রচুর তদ্ভব এবং চলিত ফারসী শব্দের ব্যবহার এবং ক্রিয়া পদে সাধু ও কথ্য ভাষার মিশ্রণ তাঁর গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর লেখা বই আলালের ঘরের দুলাল এই গদ্যের ব্যবহার করা হয়েছিল যার জন্য এর নাম হয়ে যায় ‘আলালী ভাষা’। টেকচাঁদ ঠাকুর যেমন ‘আলালী’ ভাষায় ক্রিয়া পদের সাধু ও চলিত রূপের ব্যবহার করেছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রায় একই সময়ে লেখা হুতোম প্যাঁচার নকশায় তা করেন নি। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯. সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোনরূপে বিদ্যমান? [১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১৫]
(ক) আঞ্চলিক
(খ) উপভাষা
(গ) লেখ্য
(ঘ) কথ্য
উঃ গ
ব্যাখ্যা: অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে। যথা— ১) মৌখিক বা কথ্য ২) লৈখিক বা লেখ্য রূপ
ভাষার মৌখিক রূপের আবার একাধিক রীতি : একটি চলিত কথ্য রীতি আরেকটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও দুইটি রূপ আছে: একটি চলিত রীতি ও অপরটি সাধু রীতি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪০. ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি? [১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১৫]
(ক) তিনটি
(খ) চারটি
(গ) পাঁচটি
(ঘ) ছয়টি
উঃ খ
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ ৪টি। ক. ধ্বনি খ. শব্দ গ. বাক্য ঘ. অর্থ উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৪১. পাণিনি কে ছিলেন? [১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১৪]
(ক) ভাষাবিদ
(খ) ঋগ্বেদবিদ
(গ) বৈয়াকরণ
(ঘ) আখ্যানবিদ
উঃ গ
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ। তিনি ‘অষ্টাধ্যায়ী’ নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।
প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে; খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২. বাংলা ভাষা কোন মূল ভাষার অন্তর্গত? [১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১৪]
(ক) দ্রাবিড়
(খ) ইউরালীয
(গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
(ঘ) সেমেটিক
উঃ গ
ব্যাখ্যা: অসমীয়াকে বাদ দিলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের পূর্বদিকের সবচেয়ে প্রান্তিক ভাষা বাংলা।
নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। বর্তমান বাংলাদেশে বাংলা প্রায় একমাত্র এবং ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহৃত প্রধান ভাষা। এর পশ্চিমে ওড়িয়া, মাগধী, মৈথিলি ও পূর্বে অসমীয়া ভাষার সীমান্ত।
এছাড়া সাঁওতালি, মুন্ডারি, খাসি ইত্যাদি অস্ট্রিক গোত্রের ভাষা এবং কাছারি, বোড়ো, গারো, ত্রিপুরী ইত্যাদি ভোট-বর্মী গোত্রের ভাষাও বাংলাকে ঘিরে রেখেছে, কখনও বা তার অঞ্চলে প্রvistও হচ্ছে।
ইতিহাস মাগধী প্রাকৃতের (খ্রি. পূ ৬০০- খ্রি. ৬০০) পরবর্তী স্তর মাগধী অপভ্রংশ এবং তৎপরবর্তী স্তর অবহট্ঠের মধ্য দিয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ স্বাধীন নব্যভারতীয় আর্যভাষারূপে বাংলার উদ্ভব হয়। উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩. ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে? [১০ম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১৪]
(ক) ব্যাকরণ
(খ) ভাষা
(গ) ব্যাকরণ ও ভাষা উভয়ই একসাথে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উঃ খ
ব্যাখ্যা: মনের ভাব প্রকাশের জন্যে মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টি ভাষা বলে।
ভাষার মূল উপাদান হলো ধ্বনি। ধ্বনির সাহায্যেই ভাষার সৃষ্টি। ধ্বনির লিখিত রূপকে বর্ণ বলে। বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয় শব্দ এবং শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয় বাক্য। এই বাক্য হলো ভাষার মূল উপকরণ।
ব্যাকরণ একটি সংস্কৃত শব্দ যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা। কোন ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে সেই ভাষার উপকরণ এবং উপাদানগুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সম্পর্কে জানা যায়।
ব্যাকরণ ভাষার শৃঙ্খলা রক্ষা করে নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে এবং তা প্রয়োগের রীতি সূত্রবদ্ধ করে। সুতরাং, ব্যাকরণকে ভাষার আইন বলা যায়।
সুতরাং ভাষা আগে সৃষ্টি হয় এবং এই ভাষাকে শৃঙ্খলিত করতে ব্যাকরণের সৃষ্টি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৪৪. কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট? [৯ম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১৩/৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল): ২০১০]
(ক) কথ্য ভাষা
(খ) আঞ্চলিক ভাষা
(গ) সাধু ভাষা
(ঘ) চলিত ভাষা
উঃ গ
ব্যাখ্যা (৪৪ নং প্রশ্নের অবশিষ্টাংশ): সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া। ---
৪৫. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩] (ক) ভারতীয় আর্য
(খ) সংস্কৃত
(গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
(ঘ) বঙ্গ-কামরূপী
উ. ঘ > ব্যাখ্যা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ী প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।
জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যাযসহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)। ---
৪৬. বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) কানাড়ী ভাষা
(খ) বৈদিক ভাষা
(গ) হিন্দি ভাষা
(ঘ) প্রাকৃত ভাষা
উ. খ > ব্যাখ্যা: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় $\rightarrow$ ইন্দো-ইরানীয় $\rightarrow$ ভারতীয় আর্য $\rightarrow$ প্রাকৃত $\rightarrow$ বাংলা। > আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'। বাংলা ভাষার রয়েছে কালগত ও স্থানগত স্বাতন্ত্র্য।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)। ---
৪৭. 'বুনো' কোন ভাষারীতির শব্দ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) সাধু ভাষা
(খ) কথ্য ভাষা
(গ) আঞ্চলিক ভাষা
(ঘ) চলিত ভাষা
উ. ঘ > ব্যাখ্যা: 'বুনো' চলিত ভাষারীতির শব্দ। এর সাধুরূপ- বন্য। বন্য (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- বনজাত; বনে উৎপন্ন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)। ---
৪৮. নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) তুলা
(খ) শুকানো
(গ) পড়িল
(ঘ) সহিত
উ. খ > ব্যাখ্যা: 'তুলা' এর কথ্য বা চলিত রূপ হচ্ছে 'তুলো'। এখানে 'তুলা' অর্থ কার্পাস বা শিমুল প্রভৃতি ফলের মধ্যকার সাদা আঁশ যা থেকে সুতা উৎপাদিত হয়।
অন্যদিকে, 'শুকনা' সংস্কৃত শব্দ, এর চলিত রীতি বা চলিত রূপ শুকানো।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। ---
৪৯. আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) কথ্যভাষা
(খ) উপভাষা
(গ) সাধুভাষা
(ঘ) চলিত ভাষা
উ. খ > ব্যাখ্যা: আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম 'উপভাষা'।
উপভাষা: প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষাই হলো উপভাষা (Dialect)। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণীবিণ্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বত্রই ব্যবহৃত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- 'ছেলে' শব্দটিকে বিভিন্ন উপভাষায় যেভাবে উচ্চারণ করা হয় তা হলো এরূপ- ছাওয়াল (যশোর, খুলনা), ব্যাটা ছৈল (বগুড়া), পোলা (ঢাকা, ফরিদপুর), পুত (ময়মনসিংহ), পুয়া (সিলেট), পুতো (মণিপুর), পোয়া (চট্টগ্রাম, চাকমা) এবং হুত (নোয়াখালী)।
উৎস: বাংলাপিডিয়া। ---
৫০. নিচের কোনটি সাধুরীতিরি উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) তখন গভীর ছায়া নেমে আসে সর্বত্র
(খ) তখন গম্ভীর ছায়া নামিয়া আসিল সবখানে
(গ) তখন গভীর ছায়া নামিয়া আসে সর্বত্র
(ঘ) তখন গভীর ছায়ায় সর্বত্র ঢেকে গিয়েছে
উ. খ > ব্যাখ্যা: তখন গম্ভীর ছায়া নামিয়া আসিল সবখানে—সাধুরীতিরি উদাহরণ।
সাধুরীতিরি বৈশিষ্ট্যসমূহ : > ১. সাধুরীতি ব্যাকরণ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
২. সাধুরীতি তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
৩. সাধুরীতিতে ক্রিয়ার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন— পড়িতেছি, লিখিতেছি ইত্যাদি।
৪. সাধুরীতিতে সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন— তাহারা, উহারা ইত্যাদি।
৫. সাধুরীতিতে অব্যয়ের তৎসম রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন— তথাপি, যদ্যপি ইত্যাদি।
৬. এই রীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার বেশি। যেমন— রসনেন্দ্রিয়, মহাবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি।
৭. সাধুরীতি নাটক, বক্তৃতা, সংলাপের উপযোগী নয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ)।
৫১. সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য কোন কোন পদে বেশি? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) ক্রিয়া ও বিশেষণ পদে
(খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে
(গ) সর্বনাম ও ক্রিয়া পদে
(ঘ) বিশেষ্য ও অব্যয় পদে
উ. গ > ব্যাখ্যা: সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য বেশি সর্বনাম ও ক্রিয়া পদে।
সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: > * সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর; যেমন— করা ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।
সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে; যেমন— তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।
প্রমিত/চলিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: > * প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর। ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন— করা ক্রিয়ার রূপ- করছে, করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করেছিল, করব, করবে, করতে, করে, করলে, করার। সর্বনামের ক্ষেত্রে যেমন— তারা, ওদের, যা, তা, ও, কেউ ইত্যাদি। অনুসর্গের ক্ষেত্রে যেমন— থেকে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি।
প্রমিত রীতিতে শব্দ ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের উপরে নির্ভরশীল। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন— তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব 'বছর'-ও লেখা যায়। একইভাবে 'চন্দ্র'-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায়।
প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়, যেমন— 'ধূলো, তুলো, মূলো, পুজো, সবচেয়ে' ইত্যাদি না লিখে 'ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা, সবচেয়ে' ইত্যাদি।
সুতরাং, সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২. দেশি ও তৎসম শব্দের মিশ্রণকে কী বলে? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) বাহুল্য দোষ
(খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
(গ) দুর্বোধ্যতা
(ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ
উ. খ > ব্যাখ্যা: সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। অর্থাৎ তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন—
গরুর শকট (দেশি + তৎসম) – অশুদ্ধ
গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি) – শুদ্ধ
মড়া দাহ (দেশি + তৎসম) – অশুদ্ধ
শবদাহ (তৎসম + তৎসম) – শুদ্ধ
মড়াপোড়া (দেশি + দেশি) – শুদ্ধ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩. ভাষার কোন রীতি নাটকের সংলাপে ও বক্তৃতার উপযোগী? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) আঞ্চলিক রীতি
(খ) সাধু রীতি
(গ) চলিত রীতি
(ঘ) লেখ্য রীতি
উ. গ > ব্যাখ্যা: নাটকের সংলাপের উপযোগী ভাষার রীতি— 'চলিত ভাষা'। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)। ---
স্কুল পর্যায়-২
৫৪. চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া কেমন হয়? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪] (ক) দীর্ঘ
(খ) অতিদীর্ঘ
(গ) সংক্ষিপ্ত
(ঘ) অপরিবর্তিত
উ. গ > ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া— সংক্ষিপ্ত হয়।
এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে। প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।
বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় 'প্রমিত রীতি'। এটি 'মান রীতি' নামেও পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৫৫. ব্যুৎপত্তিগতভাবে ব্যাকরণ শব্দের অর্থ হলো— [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) সংক্ষেপণ
(খ) ভাবের বিনিময়
(গ) বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
(ঘ) মিলন
উ. গ
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— বিশেষভাবে বিশ্লেষণ। আর ব্যবহারগত বা প্রকৃত অর্থ হলো ভাষা প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা।
সুতরাং, বলা যায়— মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, আর ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বুঝতে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মকে ব্যাকরণ বলে।
ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান। ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সাধন/আবিষ্কার করে। ব্যাকরণ ভাষার সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির 'বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি'।
৫৬. 'পার হইয়া' এর চলিত রূপ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) পার হয়ে
(খ) পারি হয়ে
(গ) পার হইয়ে
(ঘ) পারিয়া
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : সঠিক উত্তর হবে 'পেরিয়ে'। প্রমিত নিয়ম অনুসারে, পার হইয়া এর চলিত রূপ পেরিয়ে হলেও; অপশন বিবেচনায় সঠিক উত্তর হিসাবে এখানে পার হয়ে গ্রহণযোগ্য হবে।
সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ—
| সাধু | চলিত |
|---|---|
| দেন নি | দেননি |
| পার হইয়া | পেরিয়ে |
| পড়িল | পড়ল/পড়লো |
| করিয়া | করে |
| পূর্বেই | আগেই |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭. কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) কথ্য ভাষা
(খ) লেখ্য ভাষা
(গ) সাধু ভাষা
(ঘ) চলিত ভাষা
উ. গ
ব্যাখ্যা : সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর। সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮. কোনটি সাধুভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) সহজবোধ্য
(খ) নাট্য সংলাপ ব্যবহার
(গ) তদ্ভব শব্দবহুল
(ঘ) তৎসম শব্দবহুল
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : সাধুভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য— তৎসম শব্দবহুল। বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী। এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯. কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত ভাষাকে কী বলে? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) সাধু ভাষা
(খ) আদর্শ চলিত ভাষা
(গ) আঞ্চলিক ভাষা
(ঘ) দেশি ভাষা
উ. খ
ব্যাখ্যা : বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপ্রচুর কমে। প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচনা হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়। বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)
৬০. নাটকের সংলাপের উপযোগী ভাষার কোন রীতি? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) সাধু
(খ) চলিত
(গ) আঞ্চলিক
(ঘ) মিশ্র
উ. খ
ব্যাখ্যা : নাটকের সংলাপের উপযোগী ভাষার রীতি— 'চলিত ভাষা'। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্য সংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬১. চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) গুরুগম্ভীর
(খ) কৃত্রিম
(গ) পরিবর্তনশীল
(ঘ) তৎসম শব্দ বহুল
উ. গ
ব্যাখ্যা : বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে— চলিতরীতি/চলনরীতি। চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে। চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২. চলিত রীতির শব্দ নয় কোনটি? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) করবার
(খ) করার
(গ) করিবার
(ঘ) করে
উ. গ
ব্যাখ্যা : 'করিবার' শব্দটি হলো সাধুরীতির শব্দ। এছাড়া আরও কিছু সাধুরীতির শব্দ হলো— তাঁহারা, পাইয়াছিলেন, আসিয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩. ভাষার কোন রীতি তদ্ভব শব্দ বহুল? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) সাধুরীতি
(খ) চলিতরীতি
(গ) কথ্যরীতি
(ঘ) বানানরীতি
উ. খ
ব্যাখ্যা : চলিতরীতি হলো তদ্ভব শব্দ বহুল। চলিতরীতির অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এটি অন্যতম।
চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল, সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ০ | ০ | ০ | ১৩তম | ১ |
| ১৭তম | ০ | ০ | ১ | ১২তম | ০ |
| ১৬তম | ১ | ২ | ০ | ১১তম | ১ |
| ১৫তম | ০ | ২ | ১ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ১ | ১ | ০ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. 'উষ্ণ' শব্দের যুক্তাক্ষরটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) ষ্ + ণ
(খ) ষ + ন
(গ) ষ + ঞ
(ঘ) ষ + ঙ
উ. ক
ব্যাখ্যা : 'উষ্ণ' শব্দটির যুক্তব্যঞ্জনে 'ষ্ণ' আছে। ষ্ণ যুক্তব্যঞ্জনে ষ্ + ণ আছে।
ষ্ণ-সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ— কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।
২. স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) ফলা
(খ) কার
(গ) ধ্বনি
(ঘ) অক্ষর
উ. খ
ব্যাখ্যা : স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে। স্বরবর্ণে কার আছে ১০টি। এগুলো হচ্ছে া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ। 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। তাই 'অ' একটি নীলীন বর্ণ।
অন্যান্য অপশন:
ফলা : ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি— ন-ফলা ( ্ন ), ব-ফলা ( ্ব ), ম-ফলা ( ্ম ), য-ফলা ( ্য ), র-ফলা ( ্র ), ল-ফলা ( ্ল )।
ধ্বনি : ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ— 'ক' ধ্বনি বা 'আ' ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।
অক্ষর : বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বলে। একে 'শব্দাংশ'ও বলা হয়। এর ইংরেজি নাম- Syllable। অক্ষর মূলত দুই প্রকার। যথা: মুক্তাক্ষর- টানা যাবে (যেমন- ক/লা); বদ্ধাক্ষর- টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৩. কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) ঔ
(খ) ঈ
(গ) ঐ
(ঘ) এ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : মৌলিকতা অনুযায়ী, স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. মৌলিক স্বরধ্বনি ২. যৌগিক স্বরধ্বনি।
মৌলিক স্বরধ্বনি : যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি। যথা: ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
যৌগিক স্বরধ্বনি : একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে- ঐ (অ + ই), ঔ (অ + উ)। বাকি ২৩টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৪. কোনটি দন্ত্য ধ্বনি? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) ণ
(খ) প
(গ) ত
(ঘ) চ
উ. গ
ব্যাখ্যা : ত- দন্ত্য ধ্বনি।
দন্ত্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন— তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যান্য অপশন:
প- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
চ- তালব্য ব্যঞ্জন।
উল্লেখ,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন : দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
তালব্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ)।
৫. বাংলা বর্ণমালা এসেছে কোন লিপি থেকে? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) কিউনিফর্ম লিপি
(খ) ব্রাহ্মী লিপি
(গ) ল্যাটিন লিপি
(ঘ) হায়ারোগ্লিফিক লিপি
উ. খ
ব্যাখ্যা : বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপির আদি উৎস ব্রাহ্মী লিপি। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অসমীয়া, বোড়ো, মনিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত ও মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হত।
ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে— সারদা, নাগর ও কুটিল। বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা কুটিল রূপ থেকে। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি; স্বরবর্ণ ১১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
অন্যান্য অপশন:
কিউনিফর্ম লিপি : সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম কিউনিফর্ম (Cuneiform)। আনুমানিক ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ব্যবহৃত হতো এ লিপি। কিউনিফর্ম লিপি বাম থেকে ডানদিকে লেখা হতো এবং এর বর্ণের সংখ্যা ছিল ৩২টি।
হায়ারোগ্লিফিক লিপি : মিশরীয়রা প্রথম দিকে ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি। এই চিত্রলিপিকে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিক বা পবিত্র অক্ষর।
৬. বাংলা ভাষায় মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) ৭টি
(খ) ৮টি
(গ) ৯টি
(ঘ) ১০টি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বাংলা বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
| বর্ণ | স্বরবর্ণ | ব্যঞ্জনবর্ণ | মোট |
|---|---|---|---|
| পূর্ণমাত্রা | ৬টি (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ) | ২৬টি | ৩২টি |
| অর্ধমাত্রা | ১টি (ঋ) | ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ) | ৮টি |
| মাত্রাহীন | ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) | ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ) | ১০টি |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
স্কুল পর্যায়
৭. বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ৫টি
(খ) ৩টি
(গ) ৪টি
(ঘ) ১টি
উ. খ
ব্যাখ্যা : বাংলা वर्णমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ ৩টি।
পরাশ্রয়ী ধ্বনি : ং, ঃ, ঁ এ তিনটি স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। তাই এ বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
ং এর উচ্চারণ ঙ-এর উচ্চারণের মতো। যেমন— রং (রঙ), বাংলা (বাঙলা) ইত্যাদি। উচ্চারণে অভিন্ন হয়ে যাওয়ায় ং-এর বদলে ঙ এবং ঙ-এর বদলে ং-এর ব্যবহার খুবই সাধারণ।
ঃ এবং ঁ স্বতন্ত্র বর্ণ নয়। এর সাহায্যে ধ্বনির দ্বিত্ব উচ্চারণ বোঝায়।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮. বাংলা বর্ণমালার উৎস কী? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) তিব্বতি লিপি
(খ) ব্রাহ্মী লিপি
(গ) খরোষ্ঠী লিপি
(ঘ) দেবনাগরি লিপি
উ. খ
ব্যাখ্যা : বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে। যথা: সারদা, নাগর ও কুটিল। কুটিল রূপ থেকে এসেছে বাংলা।
অন্যান্য অপশন:
খরোষ্ঠী লিপি : ভারতীয় লিপিচিত্রের দুটি প্রধান শাখা— ব্রাহ্মী লিপি ও খরোষ্ঠী লিপি। পণ্ডিতদের মতে খরোষ্ঠী লিপি এসেছে আরবি, হিব্রু প্রভৃতি সেমিটিক বর্ণমালা থেকে।
দেবনাগরী লিপি : কুটিল লিপির প্রধানত দুটি রূপ- উত্তর ভারতীয় ও দক্ষিণ ভারতীয়। উত্তর ভারতীয় কুটিল লিপির পশ্চিমাঞ্চলীয় রূপ থেকে দেবনাগরী লিপির উৎপত্তি হয়।
৯. বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে— [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) ৩২, ৮, ১০
(খ) ৩২, ৭, ১১
(গ) ৩০, ৮, ১২
(ঘ) ৩২, ৭, ৯
উ. ক
ব্যাখ্যা :
মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১০. 'হ্ম'-এর সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) ক + ষ
(খ) হ + ম
(গ) হ + ন
(ঘ) ষ + ণ
উ. খ
ব্যাখ্যা : একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। 'হ্ম' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: হ + ম = হ্ম।
অন্যান্য অপশন:
ক্ + ষ = ক্ষ
হ্ + ন = হ্ন
ষ্ + ণ = ষ্ণ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ)।
১১. নিচের কোনটি শুদ্ধ? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) ষ্ণ = ষ + ণ
(খ) ঞ্চ = ষ + ঞ
(গ) হ্ন = ষ + ন
(ঘ) ঞ্জ = ষ + ঙ
উ. ক
ব্যাখ্যা : একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, ম্ব, ন্ড, এ, ও, ন্ট, ঠ, দ্দ, দ্ব, ন্ম, ষ্ঠ, ড, ল, স্ট, ন্ত, প্ল, ল্ল, জ, ব্ল, ল্ট, ন্ড্র, দ্ম, ফ, ন্চ, চ্ছ, ট্ট, ঠ্ঠ, ক্ষ্ম, স্ম, স্ট্র, ন্ধ ইত্যাদি।
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ত (ক্+ত), ক্ষ (ক্+ম), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), স্থ (ক্+স), গু (গ্+উ), গ্ধ (গ্+ধ), ত্র (ত্+র), জ্ঞ (জ্+ঞ), ঞ্চ (ঞ্+চ), ঞ্জ (ঞ্+জ), ঞ্চ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়-২
১২. বাংলা ভাষায় মোট কয়টি বর্ণ রয়েছে? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) ৪৭ টি
(খ) ৪৮ টি
(গ) ৪৯ টি
(ঘ) ৫০ টি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০টি।
উল্লেখ, বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৩৯টি; স্বরবর্ণের সংখ্যা ১১টি; অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৮টি; মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি; পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)
১৩. ভাষার মূল উপাদান কোনটি? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) ধ্বনি
(খ) শব্দ
(গ) বাক্য
(ঘ) অর্থ
উ. ক
ব্যাখ্যা : ভাষার মূল উপাদান 'ধ্বনি'।
ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি; বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে। আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান হলো ধ্বনি।
তাহাড়া,
ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ- বাক্য।
বাক্যের মৌলিক/ক্ষুদ্রতম/মূল উপাদান- ধ্বনি।
বাক্যের উপকরণ/বৃহত্তম একক- শব্দ।
শব্দের গঠনগত একক— বর্ণ।
ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন— বর্ণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৪. ভাষার মূল উপাদান কী? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) বাক্য
(খ) শব্দ
(গ) বর্ণ
(ঘ) ধ্বনি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান 'ধ্বনি'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (সপ্তম শ্রেণি), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
ধ্বনির উচ্চারণ ও ধ্বনি পরিবর্তন
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ০ | ১ | ০ | ১৩তম | ৩ |
| ১৭তম | ০ | ১ | ০ | ১২তম | ১ |
| ১৬তম | ১ | ০ | ০ | ১১তম | ০ |
| ১৫তম | ২ | ১ | ০ | ১০ম | ১ |
| ১৪তম | ১ | ০ | ১ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) বড় দাদা > বড়দা
(খ) কিছু > কিচ্ছু
(গ) পিশাচ > পিচাশ
(ঘ) মুক্তা > মুকুতা
উ. গ
ব্যাখ্যা : ধ্বনি বিপর্যয় : শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়। যেমন- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল, বাক্স > বাষ্ক, রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২. 'রত্ন > রতন' হওয়ার সন্ধি সূত্র— [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) স্বরভক্তি
(খ) স্বরসঙ্গতি
(গ) অভিশ্রুতি
(ঘ) অপিনিহিতি
উ. ক
ব্যাখ্যা : মধ্য স্বরাগম/বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি (Anaptyxis) : সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন—
অ-রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই-প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ-মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ-গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও-শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশন:
স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony) : একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন- দেশি দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
অপিনিহিতি (Apenthesis): পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি চাইর, মারি মাইর ইত্যাদি।
অভিশ্রুতি (Umlaut): বিপর্যয়স্থ স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'। এরূপ শুনিয়া শুনে, বলিয়া বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩. 'ঙ' ধ্বনিটির সঠিক উচ্চারণ হলো— [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) উঙা
(খ) উমো
(গ) ইঁয়ো
(ঘ) উঁয়ো
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'ঙ' বাংলা বর্ণমালার পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ক-বর্গের নাসিক্য ধ্বনির দ্যোতক। 'ঙ' ধ্বনিটির সঠিক উচ্চারণ = উঁয়ো। অপশন অনুযায়ী নিকটবর্তী উচ্চারণ হিসেবে 'উঁয়ো' গ্রহণযোগ্য।
৪. শরীর > শরীল-শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) সমীকরণ
(খ) বিষমীভবন
(গ) অসমীকরণ
(ঘ) ধ্বনিবিপর্যয়
উ. খ
ব্যাখ্যা : শরীর > শরীল-শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের বিষমীভবনের অন্তর্ভুক্ত।
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
বিষমীভবন (Dissimilation) : দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন— শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
অসমীকরণ (Dissimilation) : একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য যখন মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে অসমীকরণ বলে। যেমন— ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।
ধ্বনি বিপর্যয় : শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন— ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাষ্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিক্সা ইত্যাদি। অনুরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
সমীভবন : শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন— জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫. কোনটি ওষ্ঠ্য ধ্বনি? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) ম
(খ) ঙ
(গ) চ
(ঘ) র
উ. ক
ব্যাখ্যা :
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৬. কোনগুলো দন্ত্য ধ্বনি? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) ক খ গ ঘ
(খ) প ফ ব ভ
(গ) ত থ দ ধ
(ঘ) ট ঠ ড ঢ
উ. গ
ব্যাখ্যা : দন্ত্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৭. কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) শরীর > শরীল
(খ) হংস > হাঁস
(গ) লাফ > ফাল
(ঘ) দুর্গা > দুগ্গা
উ. গ
ব্যাখ্যা :
ধ্বনি বিপর্যয় : শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়। যেমন- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল, বাক্স > বাষ্ক, রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮. বাগ্যন্ত্রের অংশ নয়— [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) দাঁত
(খ) তালু
(গ) কান
(ঘ) নাক
উ. গ
ব্যাখ্যা : ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্যন্ত্র বলে। মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
বাগ্যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস
২. শ্বাসনালি
৩. স্বরযন্ত্র
৪. জিভ
৫. আলজিভ
৬. তালু
৭. মূর্ধা
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত)
৯. ওষ্ঠ
১০. নাসিকা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৯. কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত ধ্বনি— [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) ক
(খ) ও
(গ) হ
(ঘ) য
উ. ক
ব্যাখ্যা : কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত ধ্বনি— ক।
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাকপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ওষ্ঠ্য স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - প, ফ, ব, ভ।
দন্ত্য স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধন্য স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ক, খ, গ, gh।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
১০. দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কী বলে? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) অপগত
(খ) পরাগত
(গ) সমীভবন
(ঘ) বিষমীভবন
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বিষমীভবন : দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- তরবার > তরোয়াল, লাঙ্গল > নাঙ্গল, শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
সমীভবন : শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।
পরাগত সমীভবন : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন। যেমন- তৎ + জন্য > তজ্জন্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১১. অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) 'চ' ধ্বনি
(খ) 'ছ' ধ্বনি
(গ) 'জ' ধ্বনি
(ঘ) 'ঝ' ধ্বনি
উ. ক
ব্যাখ্যা : 'চ' ধ্বনি- অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
অন্যদিকে,
'ছ' ধ্বনি- অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
'জ' ধ্বনি- ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
'ঝ' ধ্বনি- ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
ঘোষ ধ্বনি : যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি। যথা— গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, র, ল, ড়, ঢ়, য, হ।
অঘোষ ধ্বনি : যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি। যথা— ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, স, শ।
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
অল্পপ্রাণ ধ্বনি : যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যথা— ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব, স, ড়, শ, ইত্যাদি।
মহাপ্রাণ ধ্বনি : যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। যথা— খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ, ঢ়, হ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১২. নিচের কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ বর্ণ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) ট
(খ) থ
(গ) ড
(ঘ) ভ
উ. গ
ব্যাখ্যা : 'ড' ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
অন্যদিকে,
ট- অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
থ- অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
ভ- ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়-২
১৩. মানুষের ভাষা কীসের সাহায্যে সৃষ্টি হয়? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) ইশারা সাহায্যে
(খ) ঠোঁটের সাহায্যে
(গ) কণ্ঠের সাহায্যে
(ঘ) বাগযন্ত্রের সাহায্যে
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বাগ্যন্ত্র : ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্যন্ত্র বলে। মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ০ | ০ | ০ | ১৩তম | ০ |
| ১৭তম | ০ | ১ | ০ | ১২তম | ১ |
| ১৬তম | ০ | ২ | ০ | ১১তম | ০ |
| ১৫তম | ০ | ০ | ০ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ০ | ০ | ০ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. ণত্ব বিধান বাংলা বানানে কোন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) সংস্কৃত
(খ) বিদেশি শব্দ
(গ) দেশি শব্দ
(ঘ) তদ্ভব শব্দ
উ. ক
ব্যাখ্যা : তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে 'ণ' এর ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধান নেই। সমাসবদ্ধ শব্দের বানানেও ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
২. ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) পূর্বাহ্ণ
(খ) মধ্যাহ্ন
(গ) অপরাহ্ন
(ঘ) সায়াহ্ন
উ. ক
ব্যাখ্যা : ণ-ত্ব বিধি অনুসারে শুদ্ধ- পূর্বাহ্ণ। কারণ, অপর, পরা, পূর্ব, প্র-এই কয়েকটি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন-এর জায়গায় মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন— পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশনের সঠিক রূপ— অপরাহ্ণ, মধ্যাহ্ন, সায়াহ্ন।
ণ-ত্ব বিধান : তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন— ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন— ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন— কৃপণ, হরিণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ, শ্রবণ ইত্যাদি।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
চাণক্য মাণিক্য গণ বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপন লাবণ্য বাণী নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্কণ তূণ কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিনাক পণ্য বাণ।
সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন— ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রহায়নিক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না। যেমন— অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩. নিচের কোনটি 'ষত্ব' বিধানের নিয়মে শুদ্ধ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) মাস্টার
(খ) পোশাক
(গ) জিনিস
(ঘ) পোস্ট মাস্টার
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : 'ষত্ব' বিধানের নিয়মে সবগুলো বানান শুদ্ধ।
ষ-ত্ব বিধান : তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ষ-এর ব্যবহারের নিয়মই ষ-ত্ব বিধান।
অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে 'ষ' হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন— সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, অভিসেক > অভিষেক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
'ঋ' এবং ঋ কারের (ৃ) পর 'ষ' হয়। যেমন— ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, সৃষ্টি, দৃষ্টি ইত্যাদি।
তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন— বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা— পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা— পুরস্কার।
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা— কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন— রোষ, কোষ, পৌষ, দ্বেষ, আষাঢ়, কলুষ, মানুষ, ভূষণ, ভাষণ, ভাষা, ঔষধ, পাষাণ, ঊষা, ষড়যন্ত্র, ষড়ঋতু ইত্যাদি।
আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন— অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না—এর উদাহরণ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) অগ্রনায়ক
(খ) রতন
(গ) আপন
(ঘ) অনুষ্ঠান
উ. ক
ব্যাখ্যা : সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না; এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন— ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫. কোন প্রত্যয়যুক্ত পদে মূর্ধন্য 'ষ' হয় না? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) সাৎ
(খ) সা
(গ) ষ্ণেয়
(ঘ) ন্তিক
উ. ক
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে কখনো 'ষ' হয় না। যেমন— অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬. কোন ধরনের শব্দে কখনোই মূর্ধন্য-ণ হবে না? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) তৎসম
(খ) বিদেশি
(গ) তদ্ভব
(ঘ) আঞ্চলিক
উ. খ
ব্যাখ্যা : বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধান নেই। বাংলা ব্যাকরণে মূর্ধন্য-ণ-এর ব্যবহার শুধু তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দেই সীমাবদ্ধ। অন্য ধরনের শব্দে দন্ত্য-ন ব্যবহৃত হয়।
নিচে অপশনসমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো—
তৎসম : তৎসম শব্দে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ— প্রাণ, বাণী, ক্ষণিক ইত্যাদি।
বিদেশি : বিদেশি শব্দে (ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি) 'ণ' ব্যবহার হয় না। উদাহরণ— টেলিভিশন (ফোনে 'ন')।
তদ্ভব : সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত শব্দে 'ণ'-এর বদলে 'ন' ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ— অঘ্রান (সংস্কৃত 'অগ্রহায়ণ' থেকে আগত)।
আঞ্চলিক : আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষার শব্দেও 'ণ' ব্যবহার হয় না। উদাহরণ— কেইন্যা (কন্যা)।
অর্থাৎ, বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, মূর্ধন্য-ণ কেবল তৎসম শব্দেই প্রযোজ্য। প্রশ্নটি চাকরির মূল পরীক্ষায় আসছে বিদায় অধিক প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য বিবেচনায় 'অপশন (খ) বিদেশি' উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা (১ম খণ্ড; ড. হুমায়ুন আজাদ)
সন্ধি
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ১ | ২ | ২ | ১৩তম | ১ |
| ১৭তম | ৩ | ২ | ৩ | ১২তম | ১ |
| ১৬তম | ১ | ১ | ২ | ১১তম | ১ |
| ১৫তম | ১ | ১ | ৩ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ১ | ১ | ৩ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. ‘বনস্পতি’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) বনস + পতি
(খ) বনঃ + পতি
(গ) বন + পতি
(ঘ) বনো + পতি
উ. গ
ব্যাখ্যা : নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি : কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ:
বন্ + পতি = বনস্পতি
তৎ + কর = তস্কর
আ + চর্য = আশ্চর্য
মনস্ + ঈষা = মনীষা
গো + পদ = গোস্পদ
ষট্ + দশ = ষোড়শ
পর + পর = পরস্পর
এক্ + দশ = একাদশ
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
পতৎ+ অঞ্জলি = পতঞ্জলি
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২. ‘চতুষ্পদ’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) চতুর + পদ
(খ) চতুষ্ + পদ
(গ) চতু + পদ
(ঘ) চতুঃ + পদ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ‘চতুষ্পদ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = চতুঃ + পদ।
সূত্র: বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনিরের পর ক, খ, প, ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে ষ্ হয় এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ- ধ্বনির পর ক, খ, প, ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ(ঃ) স্থানে স্-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
| সূত্র | উদাহরণ |
|---|---|
| ইঃ + ক = ই + স্ক | আবিঃ + কার = আবিষ্কার |
| ইঃ + প = ই + স্প | নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি, নিঃ + পন্ন = নিষ্পন্ন |
| ইঃ + ফ = ই + স্ফ | নিঃ + ফল = নিষ্ফল |
| উঃ + ক = উ + স্ক | দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি, চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ |
| উঃ + প = উ + স্প | চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ, ভ্রাতুঃ + পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র |
| অঃ + ক = অ + স্ক | তিরঃ + কার = তিরস্কার, পুরঃ + কার = পুরস্কার |
| আঃ + ক = আ + স্ক | ভাঃ + কর = ভাস্কর |
| অঃ + প = অ + স্প | বাচঃ + পতি = বাচস্পতি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩. ‘সন্ধি’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) রূপতত্ত্বে
(খ) বাক্যতত্ত্বে
(গ) অর্থতত্ত্বে
(ঘ) ধ্বনিতত্ত্বে
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ‘সন্ধি’ ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়। যথা: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।
| আলোচনার বিভাগ | আলোচ্য বিষয়সমূহ |
|---|---|
| ধ্বনিতত্ত্ব | ধ্বনি, বর্ণ, ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি। |
| আলোচনার বিভাগ | আলোচ্য বিষয়সমূহ |
|---|---|
| রূপতত্ত্ব | শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, অনুসর্গ, পদ-প্রকরণ, অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার কাল, পুরুষ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু প্রভৃতি। |
| অর্থতত্ত্ব | বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি। |
| বাক্যতত্ত্ব | বাক্যে রূপান্তর, বাচ্য, উক্তি, কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি। |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম ও দশম শ্রেণি; ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন)।
৪. ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী-নিচের কোন নিয়মে হয়েছে? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) আ + ঈ = এ
(খ) অ + ঈ = এ
(গ) আ + ই = এ
(ঘ) অ + ই = এ
উ. ক
ব্যাখ্যা : ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী একটি তৎসম স্বরসন্ধি।
সূত্র: 'আ + ঈ = এ' নিয়মে গঠিত হয়েছে। এরূপ—
মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর
রমা + ঈশ = রমেশ
মহা + ঈশ = মহেশ
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫. কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) শুভেচ্ছা
(খ) সংবাদ
(গ) প্রত্যেক
(ঘ) অতীত
উ. খ
ব্যাখ্যা : সম্ + বাদ = সংবাদ; ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা $\rightarrow$ স্বরসন্ধির উদাহরণ।
প্রতি + এক = প্রত্যেক $\rightarrow$ স্বরসন্ধির উদাহরণ।
অতি + ইত = অতীত $\rightarrow$ স্বরসন্ধির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৬. 'নীরোগ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) নীঃ + রোগ
(খ) নিঃ + রোগ
(গ) নি + রোগ
(ঘ) নির + যোগ
উ. খ
ব্যাখ্যা : 'নীরোগ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + রোগ।
বিসর্গসন্ধি : বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
| বিসর্গ বিদ্যমান থাকে | বিসর্গ ও হয়ে যায় |
|---|---|
| মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট | মনঃ + যোগ = মনোযোগ |
| অধঃ + পতন = অধঃপতন | তিরঃ + ধান = তিরোধান |
| তপঃ + বন = তপোবন | তপঃ + বন = তপোবন |
| বিসর্গ র হয়ে যায় | বিসর্গ শ/ষ/স হয় |
|---|---|
| নিঃ + আকার = নিরাকার | নিঃ + চয় = নিশ্চয় |
| পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন | দুঃ + কর = দুষ্কর |
| আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ | পুরঃ + কার = পুরস্কার |
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়
নিঃ + রব = নীরব
নিঃ + রস = নীরস
নিঃ + রোগ = নীরোগ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৭. ‘দুর্যোগ’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) দুহঃ + যোগ
(খ) দুঃ + যোগ
(গ) দুর + যোগ
(ঘ) দুরঃ + যোগ
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘দুর্যোগ’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দুঃ + যোগ।
সূত্র- অ ও আ ভিন্ন অন্য অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ বা বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্য ধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে র- হয়। যেমন—
নিঃ + আকার = নিরাকার
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮. ‘ষষ্ঠ’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) ষট্+থ
(খ) ষষ্ঠ+থ
(গ) ষষ্+থ
(ঘ) ষষ্+ঠ
উ. গ
ব্যাখ্যা : ‘ষষ্ঠ’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ষষ্+থ। এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
সূত্র- ‘ষ’ এর পর যথাক্রমে ‘ত’ বা ‘থ’ থাকলে তার স্থানে যথাক্রমে ‘ট’ বা ‘ঠ’ হয়ে যায়। যেমন- কৃষ্ + তি = কৃষ্টি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৯. কাঁদ + না-এটি কোন সন্ধি? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) স্বরসন্ধি
(খ) ব্যঞ্জন সন্ধি
(গ) খাঁটি বাংলা সন্ধি
(ঘ) বিসর্গ সন্ধি
উ. খ
ব্যাখ্যা :
ব্যঞ্জনসন্ধি : স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি তিন নিয়মে হয়। যথা—
১. স্বর+ব্যঞ্জন
২. ব্যঞ্জন + স্বর
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
কাঁদ + না = কান্না; স্বর+ব্যঞ্জন সূত্র যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১০. উৎ + শ্বাস- এটি কোন সন্ধি? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) নিপাতনে সিদ্ধ
(খ) স্বরসন্ধি
(গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
(ঘ) জটিল সন্ধি
উ. গ
ব্যাখ্যা : উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস; ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন সূত্র যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধি।
সূত্র- ত্ (ৎ) ও দ্ এর পর শ্ থাকলে ত্ ও দ্ এর স্থানে চ্ এবং শ্ এর স্থানে ছ্ উচ্চারিত হয়। অর্থাৎ ত্ + শ্ = চ্ + ছ্ $\rightarrow$ চ্ছ। যেমন— উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
স্কুল পর্যায়
১১. 'চলচ্চিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) চলৎ + চিত্র
(খ) চল + চিত্র
(গ) চলন্ত + চিত্র
(ঘ) চলিচ + চিত্র
উ. ক
ব্যাখ্যা : প্রশ্নে দেওয়া আছে 'চলচিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ; যা টাইপিং মিসটেক। কিন্তু এটি 'চলচ্চিত্র' হবে।
সূত্র- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন—
চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ);
বিপদ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ);
উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১২. সন্ধির প্রধান সুবিধা কী? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) লেখার সুবিধা
(খ) উচ্চারণের সুবিধা
(গ) পড়ার সুবিধা
(ঘ) শোনার সুবিধা
উ. খ
ব্যাখ্যা : সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়। বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২)।
১৩. সন্ধিতে 'চ' ও 'জ' এর নাসিক্য ধ্বনি কী হয়? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) অনুস্বার
(খ) দ্বিত্ব
(গ) মহাপ্রাণ
(ঘ) তালব্য
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : তালব্য অল্পপ্রাণ ধ্বনির পরে নাসিক্য ধ্বনি আসলে নাসিক্য ধ্বনিটিও তালব্য নাসিক্য ধ্বনি হয়। অর্থাৎ, 'চ/জ' এর পরে ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (নাসিক্য ধ্বনি) থাকলে সেগুলো 'ঞ' হয়ে যায়। যেমন-
| চ্ + ন = চ্ + ঞ | যাচ্ + না = যাচ্ঞা, রাজ্ + নী = রাজ্ঞী |
| জ্ + ন = জ্ + ঞ | যজ্ + ন = যজ্ঞ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪. 'প্রত্যাবর্তন' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ— [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) প্রতি + বর্তন
(খ) প্রতিঃ + বর্তন
(গ) প্রতি + আবর্তন
(ঘ) প্রতিঃ + আবর্তন
উ. গ
ব্যাখ্যা : প্রত্যাবর্তন = প্রতি + আবর্তন; যা স্বরসন্ধির উদাহরণ।
সূত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য (্য) ফলা হয়।
য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। যেমন—
| ই + এ = য্ + এ | প্রতি + এক = প্রত্যেক |
| ই + উ = য্ + উ | অতি + উক্তি = অত্যুক্তি |
| ই + অ = য্ + অ | অতি + অন্ত = অত্যন্ত |
| ই + আ = য্ + আ | ইতি + আদি = ইত্যাদি |
| ঈ + অ = য্ + অ | নদী + অম্বু = নদ্যম্বু |
| ঈ + আ = হ্ + আ | মসী + আধার = মস্যাধার |
অনুরূপ— অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার, যদ্যপি, আদ্যন্ত, প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৫. 'দ্যুলোক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) দ্যু + লোক
(খ) দুই + লোক
(গ) দ্বি + লো
(ঘ) দিব্ + লোক
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'দ্যুলোক' = শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দিব্ + লোক। এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
১৬. 'ভাস্কর'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কী? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) ভাসু + সর
(খ) ভাস + কর
(গ) ভাঃ + কর
(ঘ) ভা + স্বর
উ. গ
ব্যাখ্যা : 'ভাস্কর'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ ভাঃ + কর।
তবে, ভাষ্ + কর = ভাস্কর।
১৭. কোন বাংলা পদের সাথে সন্ধি হয় না? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) ক্রিয়া
(খ) অব্যয়
(গ) বিশেষ্য
(ঘ) বিশেষণ
উ. ক
ব্যাখ্যা : সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।
খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না। এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৮. 'চতুষ্পদ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) চতুর + পদ
(খ) চতুষ + পদ
(গ) চতু + পদ
(ঘ) চতুঃ + পদ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'চতুষ্পদ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ চতুঃ + পদ। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৯. সন্ধি ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) রূপতত্ত্বে
(খ) বাক্যতত্ত্বে
(গ) অর্থতত্ত্বে
(ঘ) ধ্বনিতত্ত্বে
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ‘সন্ধি’ ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়। যথা- ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২০. ‘বনস্পতি’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) বনঃ + পতি
(খ) বন + পতি
(গ) বনস + পতি
(ঘ) বন + স্পতি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘বনস্পতি’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ বন + পতি। এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২১. কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) হিমালয়
(খ) অহরহ
(গ) সংসার
(ঘ) বনস্পতি
উ. ক
ব্যাখ্যা : হিমালয় = হিম + আলয়। এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
সূত্র- অ কার কিংবা আ কারের পর অ কার কিংবা আ কার থাকলে উভয় মিলে আ কার হয়, আ কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন—
| অ + অ = আ | নর + অধম = নরাধম। এরূপ— হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি। |
| অ + আ = আ | দেব + আলয় = দেবালয়। এরূপ— দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি। |
| আ + অ = আ | যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ— আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি। |
| আ + আ = আ | বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ— কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি। |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২২. ‘মনস্তাপ’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ— [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) মন + তাপ
(খ) মনস + তাপ
(গ) মনো + তাপ
(ঘ) মনঃ + তাপ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : মনস্তাপ = মনঃ + তাপ। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
বিসর্গ সন্ধি : পূর্বপদের শেষ ধ্বনি বিসর্গ হলে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জন কিংবা স্বর হলে এ দুয়ের মধ্যে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
সূত্র- সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স্’ বা ‘র্’ লোপ পেয়ে বিসর্গ হয়। যেমন—
‘জাত বিসর্গ: নির্>নিঃ; দুর্>দুঃ; অন্তর্>অন্তঃ ইত্যাদি।
নিঃ + আকার = নিরাকার
অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ
দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা
আশীর্বাদ = আশীঃ + বাদ
স্-জাত বিসর্গ: সরস্>সরঃ; মনস্>মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।
নিঃ + চয় = নিশ্চয়
দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৩. পাশাপাশি দুটি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে কী বলে? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) উপসর্গ
(খ) অনুসর্গ
(গ) সমাস
(ঘ) সন্ধি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। বাংলা শব্দের সন্ধি দুই প্রকার। যথা: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।
অপরদিকে, তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার। যথা: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গ সন্ধি।
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন— উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন— বাক্ + দান = বাগদান;
পূর্বপদের শেষ ধ্বনি বিসর্গ হলে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জন কিংবা স্বর হলে এ দুয়ের মধ্যে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। যেমন— মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
২৪. ‘চলচ্চিত্র’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) চলৎ + চিত্র
(খ) চল + চিত্র
(গ) চলচ + চিত্র
(ঘ) চলিচ + চিত্র
উ. ক
ব্যাখ্যা : পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। চলচ্চিত্র -এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ চলৎ + চিত্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৫. ‘দর্শক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ— [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) দ + অক
(খ) দৃশ্য + ক্বক
(গ) দৃশ্ + অক
(ঘ) দৃ + শক
উ. গ
ব্যাখ্যা : ‘দর্শক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দৃশ্ + অক।
সূত্র- স্বরবর্ণ পরে থাকলে এ-ধ্বনির জায়গায় অয়্, ঐ-ধ্বনির জায়গায় আয়্, ও-ধ্বনির জায়গায় অব্ এবং ঔ-ধ্বনির জায়গায় আব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনি বানানে সন্ধিজাত য়্, ব্ কিংবা - এর সঙ্গে যুক্ত হয়। এখানে, দৃশ্ + অক = দর্শক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৬. ‘পরীক্ষা’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২]
(ক) পরী + ইক্ষা
(খ) পরি + ঈক্ষা
(গ) পরী + ঈক্ষা
(ঘ) পরি + ইক্ষা
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘পরীক্ষা’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ— পরি + ঈক্ষা।
সূত্র- ই-কার কিংবা ঈ-কার এর পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন—
ই + ই = ঈ; অতি + ইত = অতীত
ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯)।
২৭. ‘সন্ধি’ শব্দের অর্থ কী? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) সংক্ষেপণ
(খ) মিলন
(গ) একপদীকরণ
(ঘ) চিহ্ন
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘সন্ধি’ শব্দের অর্থ মিলন। সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
অন্যদিকে, সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮. ‘সতীশ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কী হবে? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) সতি + ইশ
(খ) সতি + ঈশ
(গ) সতী + ঈশ
(ঘ) সতী + ইশ
উ. গ
ব্যাখ্যা : ‘সতীশ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ সতী + ঈশ।
স্বরসন্ধি : স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
সূত্র- ই-কার কিংবা ঈ-কার এর পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন—
| ই + ই = ঈ | অতি + ইত = অতীত |
| ই + ঈ = ঈ | পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা |
| ঈ + ই = ঈ | সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র |
| ঈ + ঈ = ঈ | সতী + ঈশ = সতীশ |
এরূপ— গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীত, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯. সন্ধির প্রধান সুবিধা কী? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) পড়ার সুবিধা
(খ) লেখার সুবিধা
(গ) উচ্চারণের সুবিধা
(ঘ) শোনার সুবিধা
উ. গ
ব্যাখ্যা : সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩০. ‘কৃষ্টি’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) কৃ + ক্তি
(খ) কৃষ্ + তি
(গ) কৃ + তি
(ঘ) কৃষ + টি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘কৃষ্টি’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কৃষ্ + তি।
সূত্র- ষ-এর পর ত বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত ও থ স্থানে ট ও ঠ হয়। যেমন—
কৃষ্ + তি = কৃষ্টি
ষষ্ + থ = ষষ্ঠ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩১. ‘ব্যর্থ’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) ব্য + অর্থ
(খ) বি + অর্থ
(গ) ব্যা + অর্থ
(ঘ) ব + অর্থ
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘ব্যর্থ’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ বি + অর্থ।
সূত্র- ই-কার কিংবা ঈ-কাররের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য (্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। যেমন—
| ই + অ = য্ + অ | অতি + অন্ত = অত্যন্ত |
| ই + আ = য্ + আ | ইতি + আদি = ইত্যাদি |
| ই + উ = য্ + উ | প্রতি + উক্তি = প্রত্যুক্তি |
| ই + ঊ = য্ + ঊ | প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ |
| ঈ + অ = য্ + অ | নদী + অম্বু = নদ্যম্বু |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩২. সন্ধির প্রধান কাজ কী? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) ধ্বনি পরিবর্তন
(খ) অর্থের পরিবর্তন
(গ) পদের পরিবর্তন
(ঘ) বাক্য সংকোচন
উ. ক
ব্যাখ্যা : সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩৩. ‘লবণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) লে + অন
(খ) লব + অন
(গ) লো + অন
(ঘ) ল + বন
উ. গ
ব্যাখ্যা : ‘লবণ’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ লো + অন।
সূত্র- এ, ঐ, ও, ঔ এর পর এ, ঐ এর স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ এর স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়। অনুরূপভাবে—
| নে + অন = নয়ন | পো + অন = পবন |
| নৈ + অক = নায়ক | পৌ + অক = পাবক |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪. সন্ধি ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) ধ্বনিতত্ত্বে
(খ) রূপতত্ত্বে
(গ) বাক্যতত্ত্বে
(ঘ) অর্থতত্ত্বে
উ. ক
ব্যাখ্যা : সন্ধি ব্যাকরণের ‘ধ্বনিতত্ত্ব’ অংশে আলোচিত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম ও দশম শ্রেণি; ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন)।
৩৫. প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধি কোন নিয়মে হয়ে থাকে? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) সমীভবন
(খ) বিষমীভবন
(গ) অপিনিহিতি
(ঘ) অসমীকরণ
উ. ক
ব্যাখ্যা : প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধি ‘সমীভবন’-এর নিয়মে হয়ে থাকে। যেমন—
নাত + জামাই = নাজ্জামাই
বদ্ + জাত = বজ্জাত
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম ও দশম শ্রেণি; ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ)।
৩৬. কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) মস্যাধার
(খ) অন্যান্য
(গ) মার্তণ্ড
(ঘ) কুলটা
উ. ক
ব্যাখ্যা : ‘মস্যাধার’-নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়।
মস্যাধার শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো মসী + আধার।
সূত্র- ই-কার বা ঈ-কাররের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য’ বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয় [ঈ + আ = য্ + আ]।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি : সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
| গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র | কুল + অটা = কুলটা |
| গো + অক্ষ = গবাক্ষ | পর + পর = পরস্পর |
| প্র + এষণ = প্রেষণ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩৭. সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে কী বলে? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) সন্ধি
(খ) প্রত্যয়
(গ) বচন
(ঘ) সমাস
উ. ক
ব্যাখ্যা : সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। যেমন—
আশা + অতীত = আশাতীত
হিম + আলয় = হিমালয়
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮. নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয় না কোনটির? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) পাবক
(খ) শাবক
(গ) কুলটা
(ঘ) গায়ক
উ. গ
ব্যাখ্যা : কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে। যেমন—
কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।
নিচে আরও কিছু স্বরসন্ধির উদাহরণ দেওয়া হলো:
| অন্য + অন্য = অন্যান্য | প্র + ঊ = প্রৌঢ় |
| গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র | মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড |
| বিম্ব + ওষ্ঠ = বিম্বোষ্ঠ | শুদ্ধ + ওদন= শুদ্ধোদন |
| সীমান্ত + অত= সীমান্ত | সার + অঙ্গ = সারঙ্গ |
| স্ব + ঈয় = স্বীয় | স্ব + ঐর = স্বৈর |
| অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৩৯. ‘রাজ্ঞী’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) রাজ্ + নী
(খ) রাজ্ঞ + নী
(গ) রাজ্ + জ্ঞী
(ঘ) রাগ + জ্ঞী
উ. ক
ব্যাখ্যা : ‘রাজ্ঞী’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ রাজ্ + নী।
সূত্র- ব্যঞ্জনসন্ধিতে চ্ ও জ্ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। যেমন— যাচ্+না = যাচ্ঞা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪০. ‘দুর্যোগ’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) দুর + যোগ
(খ) দুঃ + যোগ
(গ) দু + যোগ
(ঘ) দূরোঃ + যোগ
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘দুর্যোগ’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘দুঃ + যোগ’।
সূত্র- অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, l, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪১. ‘সতীশ’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) সতি + ইশ
(খ) সতি + ঈশ
(গ) সতী + ইশ
(ঘ) সতী + ঈশ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ‘সতীশ’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ সতী + ঈশ।
সূত্র- ই-কার কিংবা ঈ-কাররের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪২. “গবেষণা” শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) গব + এষণা
(খ) গো + এষণা
(গ) গো + ঘণা
(ঘ) গ + বেষণা
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘গবেষণা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- গো + এষণা।
সূত্র- শব্দের শুরুতে অব্ উচ্চারণ থাকলে ও-কার হয়। যেমন—
| গবেষণা = গো + এষণা | পবন = পো + অন |
| লবণ = লো + অন | পবিত্র = পো + ইত্র |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩. ‘লবণ’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) লো + অন
(খ) লো + বন
(গ) ল + বন
(ঘ) লৈ + বন
উ. ক
ব্যাখ্যা : ‘লবণ’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ- লো + অন।
সূত্র- এ, ঐ, ও, ঔ এর পর এ, ঐ এর স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ এর স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ কোনটি? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) নিষ্কর
(খ) পরস্পর
(গ) সন্তাপ
(ঘ) ষষ্ঠ
উ. খ
ব্যাখ্যা : অপশনে প্রদত্ত শব্দের মধ্যে ‘পরস্পর’ হলো নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। পরস্পর এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো পর + পর = পরস্পর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫. ‘ষড়ঋতু’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ— [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) ষড় + ঋতু
(খ) ষড়্ + ঋতু
(গ) ষট + ঋতু
(ঘ) ষট্ + ঋতু
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ‘ষড়ঋতু’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ ষট্ + ঋতু।
সূত্র- ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্ত্যমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়। যেমন—
| বাক্ + দান = বাগদান | উৎ + যোগ = উদ্যোগ |
| ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র | উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন |
| উৎ + ঘাটন = উদ্ঘাটন | তৎ + রূপ = তদ্রূপ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬. ‘মতৈক্য’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) মতঃ + এক
(খ) মতঃ + ঐক্য
(গ) মত + এক
(ঘ) মত + ঐক্য
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : মতৈক্য শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ মত + ঐক্য। এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
সূত্র- অ/আ + এ/ঐ = ঐ।
একই সূত্রের আরও কিছু উদাহরণ:
| তথৈব = তথা+এব | মহা+ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য |
| জন + এক= জনৈক | হিত+এষী = হিতৈষী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (অষ্টম শ্রেণি)।
শব্দ প্রকরণ
শব্দের শ্রেণিবিভাগ ও শব্দের উৎসসূচক
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ২ | ১ | ০ | ১৩তম | ২ |
| ১৭তম | ২ | ০ | ১ | ১২তম | ২ |
| ১৬তম | ২ | ৩ | ০ | ১১তম | ১ |
| ১৫তম | ১ | ২ | ০ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ৩ | ২ | ০ | ৯ম | ১ |
কলেজ পর্যায়
১. অর্থানুসারে শব্দ কত প্রকার? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) ২ প্রকার
(খ) ৩ প্রকার
(গ) ৪ প্রকার
(ঘ) ৫ প্রকার
উ. খ
ব্যাখ্যা : অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: যৌগিক শব্দ, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
যৌগিক শব্দ : যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন— পড়ূ + উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা + আই = ঢাকাই; কৃ + তব্য = কর্তব্য।
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ : যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন— ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
যোগরূঢ় শব্দ : সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন— ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি। কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২. ‘রিক্সা’ কোন ভাষার শব্দ? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) তুর্কি
(খ) কোরিয়ান
(গ) জাপানি
(ঘ) পর্তুগিজ
উ. গ
ব্যাখ্যা : ‘রিক্সা’ শব্দটি ‘জাপানি’ ভাষা থেকে আগত।
রিকশা/রিক্সা (বিশেষ্য):
অর্থ: মানুষবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান।
আরও কিছু জাপানি শব্দ হলো— সুনামি, ক্যারাটে, হাসনাহেনা, জুতো, রিক্সা, প্যাগোডা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩. ‘কলম’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে গৃহীত? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) সংস্কৃত
(খ) আরবি
(গ) ফারসি
(ঘ) তুর্কি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘কলম’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে গৃহীত।
কলম (বিশেষ্য):
অর্থ: কোন শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী; করনাকলম। নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪. পাউরুটি কোন ভাষার শব্দ? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) পাঞ্জাবি
(খ) ফারসি
(গ) গুজরাটি
(ঘ) পর্তুগিজ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : পাউরুটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
পাউরুটি (বিশেষ্য):
অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫. কোনটি ফারসি শব্দ? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) চাবি
(খ) চাকর
(গ) চাহিদা
(ঘ) চশমা
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : চশমা (বিশেষ্য): ফারসি শব্দ
অর্থ: ক্ষীণদৃষ্টি শক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে নাকের উপর ধারণীয় ফ্রেমে আঁটা কাচ বা প্লাস্টিকের পরকলাযুক্ত সরঞ্জাম, উপনেত্র।
চাকর (বিশেষ্য):
ফারসি শব্দ— আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুযায়ী।
তুর্কি শব্দ— মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) অনুযায়ী।
অর্থ: পরিচারক, কর্মচারী।
অন্য অপশন:
চাবি = পর্তুগিজ শব্দ।
চাহিদা = আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুযায়ী বাংলা শব্দ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী পাঞ্জাবি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬. যোগরূঢ় শব্দ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) বাঁশি
(খ) তৈল
(গ) পঙ্কজ
(ঘ) চিকামারা
উ. গ
ব্যাখ্যা : পঙ্কজ- পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
অন্য অপশন:
বাঁশি, তৈল- রূঢ়ি শব্দ।
চিকামারা- যৌগিক শব্দ।
সমাসনিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন—
জলধি : ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
মহাযাত্রা : ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
রাজপুত : ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতি বিশেষ’।
অন্যদিকে, সন্দেশ, প্রবীণ, গবেষণা, হস্তী রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৭. মৌলিক শব্দ কোনটি? [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) শ্রবণ
(খ) পরিষ্কার
(গ) পাঠক
(ঘ) কালো
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— গোলাপ, নাক, কালো, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
শ্রবণ, পরিষ্কার, পাঠক ইত্যাদি সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮. কোনটি তৎসম শব্দ? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) কিংবদন্তি
(খ) হাতি
(গ) চাঁদ
(ঘ) তেঁতুল
উ. ক
ব্যাখ্যা : কিংবদন্তি (বিশেষ্য): এটি সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। এর প্রকৃতি প্রত্যয় = কিম্+বদ্+অন্তি
অর্থ: লোক পরম্পরায় শ্রুত কাহিনি, গুজব।
অন্যদিকে,
হাতি = সংস্কৃত শব্দ হস্তী থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
তেঁতুল = সংস্কৃত শব্দ তিন্তিড়ী থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯. উৎপত্তি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) ৪ ভাগে
(খ) ৩ ভাগে
(গ) ৫ ভাগে
(ঘ) ৬ ভাগে
উ. ক
ব্যাখ্যা : উৎস/উৎপত্তি বিবেচনায় বাংলা শব্দ ভাণ্ডার নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে।
| উৎস/উৎপত্তি বিবেচনায় বাংলা শব্দ | প্রকার |
|---|---|
| মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৩ সংস্করণ) অনুযায়ী | চার প্রকার। যথা— তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। |
| বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড) অনুযায়ী | চার প্রকার। যথা— তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। |
| মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী | পাঁচ প্রকার। যথা— তৎসম, তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি, বিদেশি। |
বাংলা ভাষার জন্য বাংলা একাডেমি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ; তাই বাংলা একাডেমির প্রদত্ত ৪ শ্রেণির বিভাজনটি অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে।
উল্লেখ্য, যে কোনো পরীক্ষায় যদি প্রশ্ন হয়- বাংলা শব্দের উৎসগত শ্রেণি কয়টি এবং অপশনে ৪ ও ৫ দুটিই থাকে; উত্তর ৪ হবে। [বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ অনুসারে]
যদি একই রকম প্রশ্ন ও অপশনে ৪ না থাকে; সেক্ষেত্রে উত্তর ৫টি হতে পারে। [মাধ্যমিক ব্যাকরণের পুরনো সংস্করণ ও অন্যান্য প্রচলিত ব্যাকরণ বই অনুসারে]
১০. 'ইংরেজি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) গ্রিক
(খ) তুর্কি
(গ) ফারসি
(ঘ) পর্তুগিজ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'ইংরেজি' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে।
ইংরেজি (বিশেষ্য):
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। English.
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১. নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) পঙ্কজ
(খ) তৈল
(গ) মধুর
(ঘ) নবাবী
উ. ক
ব্যাখ্যা : পঙ্কজ- পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' শব্দটি একটি যোগরূঢ় শব্দ।
অন্যদিকে,
তৈল- রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
মধুর এবং নবাবী- যৌগিক শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১২. কোনটি দেশী শব্দ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) রিকশা
(খ) চা
(গ) কিতাব
(ঘ) কুলা
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : কুলা (বিশেষ্য) : সংস্কৃত শব্দ কুল্য থেকে আগত তদ্ভব শব্দ। অর্থ: ধান, চাল প্রভৃতি ঝাড়ার জন্য ব্যবহৃত বাঁশের চাচ দিয়ে তৈরি অর্ধবৃত্তাকার ডালাবিশেষ, কুলো।
অনেক লেখক ও গবেষক তদ্ভব শব্দকে আমাদের দেশি শব্দের নিজস্ব সম্পদ বলে অভিহিত করেছেন।
তাই এখানে সঠিক উত্তর- কুলা।
অন্যদিকে,
রিকশা = জাপানি শব্দ
চা = চীনা শব্দ
কিতাব = আরবি শব্দ
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩. নতুন শব্দ গঠন করে— [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) সন্ধি ও সমাস
(খ) সন্ধি ও কারক
(গ) সমাস ও পদ
(ঘ) প্রত্যয় ও পুরুষ
উ. ক
ব্যাখ্যা :
সন্ধি : সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।
সমাস : অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাস অর্থ হলো সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষেপ করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়।
অন্য অপশন:
কারক : বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। ‘কারক’ শব্দটির অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
পদ : শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে পদ বলে।
প্রত্যয় : শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
পুরুষ : পুরুষ একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা— উত্তম পুরুষ (স্বয়ং বক্তা), মধ্যম পুরুষ (প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতা) এবং নাম পুরুষ (অনুপস্থিত অথবা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণী)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪. ‘গিন্নি’ কোন শব্দ? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) তৎসম
(খ) অর্ধতৎসম
(গ) তদ্ভব
(ঘ) বিদেশী
উ. খ
ব্যাখ্যা : অর্ধ-তৎসম শব্দ হচ্ছে গিন্নি।
অর্ধ-তৎসম শব্দ : বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।
উদাহরণ— বোষ্টম, জোছনা, গিন্নি, কুচ্ছিত, ছেরাদ্দ-এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত বৈষ্ণব, জ্যোৎস্না, গৃহিণী, কুৎসিত, শ্রাদ্ধ থেকে আগত।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) বইয়ে অর্ধ-তৎসম কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫. সুহৃদ কী ধরনের শব্দ? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) মৌলিক
(খ) রূঢ়ি
(গ) যোগরূঢ়
(ঘ) যৌগিক
উ. গ
ব্যাখ্যা : সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
উদাহরণ- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, সহৃদ, অসুখ, সরোজ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
কয়েকটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ : প্রবীণ, সন্দেশ, বাঁশি, গবেষণা ইত্যাদি।
কয়েকটি মৌলিক শব্দ : হাত, পা, এক, তিন, গোলাপ, ফুল, নাক ইত্যাদি।
কয়েকটি যৌগিক শব্দ : গায়ক, নায়ক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৬. গঠন অনুসারে শব্দ কত প্রকার? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) তিন
(খ) দুই
(গ) পাঁচ
(ঘ) চার
উ. খ
ব্যাখ্যা : গঠন অনুযায়ী শব্দ দুই প্রকার। যথা—
১. মৌলিক শব্দ ২. সাধিত শব্দ
মৌলিক শব্দ : যে শব্দকে আর ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ।
সাধিত শব্দ : যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন— পরিচালক, সম্পাদকীয়, গরমিল, নীলাকাশ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৭. ‘হরতাল’ কী ধরনের শব্দ? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) তুর্কি
(খ) চীনা
(গ) পাঞ্জাবি
(ঘ) গুজরাটি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : হরতাল গুজরাটি শব্দ।
শব্দ হলো অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টি, যা বাক্য গঠনের মূল উপাদান। শব্দ একাধিক বর্ণ ও অক্ষর সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে।
গুজরাটি শব্দ : খদ্দর, হরতাল।
পাঞ্জাবি শব্দ : শিখ।
চীনা শব্দ : চা, চিনি।
তুর্কি শব্দ : কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, চাকু, তোপ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৮. বাংলা ভাষায় শব্দ সম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) দুইটি
(খ) তিনটি
(গ) চারটি
(ঘ) পাঁচটি
উ. গ
ব্যাখ্যা : ২০২২ বোর্ড বই অনুসারে, উৎসগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার চার ভাগে বিভক্ত। যথা—
১. তৎসম ২. তদ্ভব ৩. দেশি ৪. বিদেশি
স্কুল পর্যায়
১৯. ‘পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪ / ১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭ / ১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) হিন্দি
(খ) উর্দু
(গ) পর্তুগিজ
(ঘ) গ্রিক
উ. গ
ব্যাখ্যা : পেয়ারা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
‘পেয়ারা’ (বিশেষ্য):
অর্থ: ক্রান্তীয় বা উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ উদ্ভিদের অসংখ্য ছোট বীজবিশিষ্ট গোলাকৃতির ফল।
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো— আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদ্রি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, গামলা, সাবান, তোয়ালে।
অন্য অপশন:
কিছু হিন্দি শব্দ : দেখভাল, দুলকি, দিলরুবা, দাবা, দাপট, দাঙ্গা, দহলা, দশেরা, দরদাম, ঝাড়ু, জুতা, জুড়ি, ঢাকনা, ঝিল, চৌপট, চৌপাল, চৌতাল, চাটনি, কুঁকড়া, তাস, সমঝোতা।
কিছু গ্রিক শব্দ : দাম, কেন্দ্র, কেরোসিন।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০. ‘পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) বাংলা
(খ) পর্তুগিজ
(গ) ফারসি
(ঘ) হিন্দি
উ. খ
ব্যাখ্যা : পেয়ারা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
কিছু ফারসি শব্দ : খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা, পরহেজগার, দরগা, জায়নামাজ, কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, মেথর, রসদ, আইন, সালিশ, নালিশ, সুপারিশ, সেতার, খানা, রসিদ, ফরমান, ফরিয়াদ, শাদি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রপ্তানি, হাঙ্গামা, সর্দি, শিরোনাম, সবজি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১. ‘খ্রিস্টান’ কোন জাতীয় মিশ্র শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ইংরেজি + বাংলা
(খ) ইংরেজি + আরবি
(গ) ইংরেজি + ফারসি
(ঘ) ইংরেজি + তৎসম
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, ‘খ্রিস্টান’ ইংরেজি শব্দ। এটি মিশ্র শব্দ নয়।
উল্লেখ্য,
পকেট-মার শব্দটি ইংরেজি + বাংলা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
হেড-মৌলভী, ডাক্তার-খানা শব্দগুলো ইংরেজি + ফারসি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
খ্রিস্টাব্দ, হেড-পণ্ডিত শব্দগুলো ইংরেজি + তৎসম শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২২. কোনটি দেশি শব্দের উদাহরণ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) লুঙ্গি
(খ) খোকা
(গ) সম্রাট
(ঘ) গঞ্জ
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী, গঞ্জ = দেশি শব্দ।
কিন্তু, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, গঞ্জ = ফারসি শব্দ।
অন্যদিকের,
লুঙ্গি = ফারসি শব্দ।
खोকা = তুর্কি শব্দ।
সম্রাট = সংস্কৃত শব্দ।
২৩. ‘মহকুমা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) তুর্কি
(খ) আরবি
(গ) ফারসি
(ঘ) ফরাসি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘মহকুমা’ আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ— কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক অঞ্চল (বাংলাদেশে বর্তমানে জেলায় উন্নীত)।
আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আসা আরো কিছু শব্দ:
১. ধর্মসংক্রান্ত : আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কোরআন, কেয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত/যাকাত, হজ, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক : আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, খারিজ, গায়েব, মহকুমা, মুন্সেফ/মুনসেফ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৪. অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ কোন ধরনের শব্দ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) যৌগিক
(খ) মৌলিক
(গ) যোগরূঢ়
(ঘ) রূঢ়ি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ রূঢ়ি শব্দ।
রূঢ়ি শব্দ : যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন— বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবি, হস্তী ইত্যাদি।
অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ৩ ভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলো— যৌগিক শব্দ, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং যোগরূঢ় শব্দ।
যৌগিক শব্দ : যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন— গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।
যোগরূঢ় শব্দ : সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন— পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।
মৌলিক শব্দ : যে শব্দকে আর ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৫. মৌলিক শব্দ কোনটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) আকাশ
(খ) শীতল
(গ) ঢাকাই
(ঘ) কান্না
উ. ক
ব্যাখ্যা : আকাশ হচ্ছে মৌলিক শব্দ।
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা— মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
মৌলিক শব্দ : যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।
শীতল, ঢাকাই = প্রত্যয়যোগে গঠিত সাধিত শব্দ।
কান্না = সন্ধিযোগে গঠিত সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২৬. নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪, ৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১]
(ক) গিন্নি
(খ) হস্ত
(গ) গঞ্জ
(ঘ) তসবি
উ. ক
ব্যাখ্যা : গিন্নি অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
আরো কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ দেওয়া হলো : জোছনা, ছেরাদ্দ, বোষ্টম, কেষ্ট।
অন্যদিকে,
হস্ত = তৎসম শব্দ।
গঞ্জ = দেশি/ ফারসি শব্দ।
তসবি = আরবি শব্দ।
কিছু সংস্কৃত শব্দ : জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, কৃষ্ণ, গৃহিণী, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৭. গিন্নি, কেষ্ট শব্দ দুটি কোন ধরনের শব্দ? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) তৎসম
(খ) অর্ধ-তৎসম
(গ) দেশি
(ঘ) বিদেশি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘গিন্নি’ ও ‘কেষ্ট’ অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৮. নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দের উদাহরণ? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) মই
(খ) জোছনা
(গ) পাতা
(ঘ) কাগজ
উ. গ
ব্যাখ্যা : পাতা তদ্ভব শব্দের উদাহরণ।
তদ্ভব শব্দ : যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ ‘তৎ’ (তার) থেকে ‘ভব’ (উৎপন্ন)।
উদাহরণ- হস্ত (সংস্কৃত) > হখ (প্রাকৃত) > হাত (তদ্ভব); চর্মকার (সংস্কৃত) > চম্মআর (প্রাকৃত) > চামার (তদ্ভব) ইত্যাদি।
মই- সংস্কৃত মযী শব্দ থেকে এসেছে।
জোছনা- অর্ধ-তৎসম শব্দ।
কাগজ- ফারসি শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৯. ব্যাকরণ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) নব্য ভারতীয় আর্যভাষা
(খ) ফারসি
(গ) সংস্কৃত
(ঘ) অসমীয়া
উ. গ
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণ শব্দটি ‘সংস্কৃত’ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
ব্যাকরণ : ডক্টর সুকুমার সেনের মতে, যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতির বিচার ও বিশ্লেষণ আছে এবং যে শাস্ত্রে জ্ঞান থাকলে বাংলা ভাষা শুদ্ধরূপে বলতে, লিখতে ও শিখতে পারা যায়, তাকে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বলে। ব্যাকরণ শব্দের অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
শব্দটি গঠিত হয়েছে এভাবে: বি + আ + $\sqrt{কৃ}$ বা কর + অন অর্থাৎ বিশেষ এবং সম্যকরূপে বিশ্লেষণ করা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০. ‘বারান্দা’ কোন ভাষা থেকে আগত? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) পর্তুগিজ
(খ) ওলন্দাজ
(গ) তুর্কি
(ঘ) ইংরেজি
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী,
বারান্দা (বিশেষ্য): ফারসি শব্দ
অর্থ- ঘরসংলগ্ন ছাদযুক্ত বা ছাদহীন চত্বর, অলিন্দ, দাওয়া।
কিন্তু ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ অনুযায়ী,
বারান্দা- পর্তুগিজ শব্দ।
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- ফারসি।
৩১. কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) মাথা
(খ) ঢেঁকি
(গ) ভবন
(ঘ) কুচ্ছিত
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : কুচ্ছিত অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ।
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ তৎসম মানে আধা সংস্কৃত। কুচ্ছিত একটি অর্ধ তৎসম শব্দের উদাহরণ। এটি মূলত সংস্কৃত কুৎসিত শব্দ থেকে এসেছে। যেমন— জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নি, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
মাথা = তৎসম ‘মস্তক’ শব্দ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
ঢেঁকি = বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) অনুযায়ী দেশি শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী হিন্দি ঢেংকি শব্দ থেকে এসেছে।
ভবন = সংস্কৃত শব্দ।
৩২. নিচের কোনটি মিশ্র শব্দ? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) বেতার
(খ) হাটবাজার
(গ) হেড-মাস্টার
(ঘ) শাকসবজি
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : সঠিক উত্তর খ ও ঘ।
কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়।
‘শাকসবজি’ একটি মিশ্র শব্দ।
বাংলা ভাষায় শাক শব্দটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে এসেছে এবং সবজি শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে এসেছে।
‘হাটবাজার’ একটি মিশ্র শব্দ।
হাট শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ হট্ট > থেকে উৎপন্ন। অর্থাৎ এটি একটি তদ্ভব শব্দ। আর তদ্ভব শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ হাট শব্দটি বাংলা শব্দও বটে। আবার, বাজার শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। ‘হাটবাজার’ শব্দটি তদ্ভব/বাংলা ও ফারসি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
বেতার একটি ফারসি শব্দ।
হেড-মাস্টার একটি ইংরেজি শব্দ।
৩৩. ‘হরতাল’ কোন ভাষার শব্দ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২]
(ক) পাঞ্জাবি
(খ) হিন্দি
(গ) জাপানি
(ঘ) গুজরাটি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : হরতাল ‘গুজরাটি’ ভাষার শব্দ।
হরতাল শব্দের অর্থ- ধর্মঘট; বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।
কিছু জাপানি শব্দ : ক্যারাটে, জুডো, হাসনুহানা, হারিকিরি, রিকশা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৪. রেস্তোরাঁ কোন ভাষার শব্দ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২]
(ক) ওলন্দাজ
(খ) জাপানি
(গ) ফরাসি
(ঘ) ইংরেজি
উ. গ
ব্যাখ্যা : রেস্তোরাঁ (বিশেষ্য): ফরাসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: যে দোকানে অর্থের বিনিময়ে পছন্দমতো আহার্য পরিবেশন করা হয়।।
এখানে আপনার আপলোড করা ইমেজটির সম্পূর্ণ টেক্সট টাইপ এবং ফরম্যাট করে দেওয়া হলো:
বাংলা ❑ ৩১
কিছু ওলন্দাজ শব্দ : ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন (তাসের নাম)।
কিছু ফরাসি শব্দ : কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, আঁতাত। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫. 'ব্যাকরণ' কোন ভাষার শব্দ? [৮ম সি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) বাংলা (খ) সংস্কৃত (গ) পর্তুগিজ (ঘ) হিন্দি উ. খ
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণ সংস্কৃত শব্দ। কোনো ভাষার শব্দ ও পদ বিন্যাসের স্বরূপ, কাঠামো, রীতি ও বিশ্লেষণ সম্পর্কিত বিদ্যা বা গ্রন্থ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৩৬. নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ? [৭ম সি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) কুৎসিত (খ) ভবন (গ) পাত্র (ঘ) গৃহিণী উ. ক
ব্যাখ্যা : কুচ্ছিত অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত। জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নি, কুচ্ছিত শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী কুৎসিত।
গৃহিণী, ভবন, পাত্র = সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭. 'পাউরুটি'-কোন ভাষার শব্দ? [৭ম সি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) পাঞ্জাবী (খ) পর্তুগিজ (গ) গুজরাটি (ঘ) ফার্সি উ. খ
ব্যাখ্যা : 'পাউরুটি'-পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। পাউরুটি (বিশেষ্য): পর্তুগিজ শব্দ অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮. পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি? [৭ম সি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) আনারস (খ) আলমারি (গ) গুদাম (ঘ) চাহিদা উ. ঘ
ব্যাখ্যা : চাহিদা-আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুযায়ী বাংলা শব্দ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী পাঞ্জাবি শব্দ। অর্থ: বাজারে পণ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা। (Demand); ক্রয়ের ইচ্ছা।
অন্যদিকে,
আনারস, আলমারি ও গুদাম – পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ? [৬ষ্ঠ সি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) চাঁদ (খ) ভবন (গ) বালতি (ঘ) হরতাল উ. খ
ব্যাখ্যা : 'ভবন'-তৎসম শব্দ। অর্থ: আলয়, গৃহ, বাসস্থান।
চাঁদ- তৎসম 'চন্দ্র' শব্দ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
বালতি- পর্তুগিজ শব্দ।
হরতাল- গুজরাটি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০. কোনটি দেশি শব্দ? [৬ষ্ঠ সি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) গিন্নি (খ) কৃপণ (গ) টোপর (ঘ) মাথা উ. গ
ব্যাখ্যা : 'টোপর'– দেশি শব্দ। অর্থ- শিরস্ত্রাণ; বড় টুপি।
গিন্নি- অর্ধ-তৎসম শব্দ।
কৃপণ- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ।
মাথা- তৎসম 'মস্তক' শব্দ থেকে এসেছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়-২
৪১. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ? [১৭তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০২২] (ক) চাঁদ (খ) খোকা (গ) কাঠ (ঘ) সন্ধ্যা উ. ঘ
ব্যাখ্যা : সন্ধ্যা (বিশেষ্য): সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। অর্থ: দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ, রাত্রির আরম্ভ, সাঁঝ। যুগসন্ধি, যুগের অবসান ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
কাঠ = সংস্কৃত শব্দ কাষ্ঠ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
খোকা = তুর্কি ভাষা উৎস থেকে আগত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২. 'আনারস' কোন ভাষার শব্দ? [১৩তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬] (ক) ওলন্দাজ (খ) গুজরাটি (গ) পর্তুগিজ (ঘ) জাপানি উ. গ
ব্যাখ্যা : 'আনারস'– 'পর্তুগিজ' ভাষা থেকে আগত শব্দ। পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো— আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদ্রি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, গামলা, সাবান, তোয়ালে। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৪৩. 'চশমা' কোন ভাষার শব্দ? [১২তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫] (ক) আরবি (খ) ফারসি (গ) ফরাসি (ঘ) গুজরাটি উ. খ
ব্যাখ্যা : চশমা (বিশেষ্য): ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ। অর্থ: ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে নাকের ওপর ধারণীয় ফ্রেমে আঁটা কাচ বা প্লাস্টিকের পরকলা যুক্ত সরঞ্জাম, উপনেত্র। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪. 'হরতাল' কোন ভাষার শব্দ? [১১তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪] (ক) গুজরাটি (খ) তুর্কি (গ) পর্তুগিজ (ঘ) বার্মিজ উ. ক
ব্যাখ্যা : হরতাল– 'গুজরাটি' ভাষার শব্দ। অর্থ: ধর্মঘট; বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।
অন্যদিকে, ফুঙ্গি- বার্মিজ শব্দ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৫. চলিত রীতির শব্দ কোনটি? [১০ম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) শুষ্ক (খ) শুকনা (গ) তুলা (ঘ) তুলো উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'তুলা'-এর কথ্য বা চলিত রূপ হচ্ছে 'তুলো'। এখানে 'তুলা' অর্থ কার্পাস বা শিমুল প্রভৃতি ফলের মধ্যকার সাদা আঁশ যা থেকে সুতা উৎপাদিত হয়।
সাধু রীতির শব্দ : মস্তক, জুতা, তুলা, শুষ্ক/শুকনা, বন্য।
চলিত রীতির শব্দ : মাথা, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
ধাতু ও প্রত্যয়
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ১ | ১ | ২ | ১৩তম | ১ | ২ | ২ | ৮ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৭তম | ৩ | ২ | ২ | ১২তম | ১ | ২ | ২ | ৭ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৬তম | ১ | ১ | ০ | ১১তম | ১ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ০ | ০ | ০ |
| ১৫তম | ১ | ৪ | ০ | ১০ম | ১ | ২ | ১ | বিশেষ | ০ | ০ | ০ |
| ১৪তম | ১ | ২ | ২ | ৯ম | ০ | ০ | ০ | মোট | ১১ | ১৮ | ১৩ |
কলেজ পর্যায়
১. 'কর্তব্য' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৮তম সি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) কব + তব্য (খ) কর + তব্য (গ) কর্তা + অব্য (ঘ) কৃ + তব্য উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। যেমন- $\sqrt{\text{দুল্}}$ + অনা = দোলনা; $\sqrt{\text{কৃ}}$ + তব্য = কর্তব্য।
উপর্যুক্ত উদাহরণে- 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় সাধিত, অর্থাৎ কৃদন্ত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)
২. 'মানব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৭তম সি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) মুন + ফ্ণ (খ) মনু + অব (গ) মনু + ফ্ণ (ঘ) মা + নব উ. গ
ব্যাখ্যা : 'মানব' একটি বাংলা তদ্ধিতান্ত শব্দ। এই শব্দটিকে ভাঙলে নামশব্দ 'মনু' ও বাংলা তদ্ধিতপ্রত্যয় 'ষ্ণ (অ)' পাওয়া যায়।
নামশব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হলে তদ্ধিতান্ত শব্দটির প্রাতিপদিকের (বিভক্তিহীন মূলশব্দ বা শব্দমূল বা নামপদ) অন্ত্যস্বরের উ ধ্বনি ষ্ণ (অ) এর সঙ্গে সন্ধিবদ্ধ হয়ে (উ + অ = অব) 'অব' এ রূপান্তরিত হয়। যেমন- মনু (প্রাতিপদিক/নামপ্রকৃতি) + ষ্ণ/অ (প্রত্যয়) = মানব [ম + অ + ন + উ + ষ্ণ/অ = মানব (উ + অ = অব)]
একইভাবে, শিশু + ষ্ণ (অ) = শৈশব; গুরু + ষ্ণ = গৌরব; লঘু + ষ্ণ = লাঘব; মধু + ষ্ণ = মাধব; মনু + ষ্ণ = মানব ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম ও দশম শ্রেণি; ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ)
৩. বিভক্তিহীন নামশব্দকে কী বলে? [১৭তম সি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) বিশেষ্য (খ) সমাস (গ) অব্যয় (ঘ) প্রাতিপদিক উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বিভক্তিহীন নামশব্দ বা নামপদকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক শব্দটি এসেছে 'প্রতিপদ' থেকে। প্রতিপদ শব্দের অর্থ আরম্ভ। যা থেকে পদের আরম্ভ হয়, তাই প্রাতিপদিক।
উল্লেখ্য যে, প্রাতিপদিক শুধু মৌলিক শব্দ নয়, সাধিত শব্দও হতে পারে। হাত, ঘর, মন প্রভৃতি শব্দ যেমন প্রাতিপদিকের উদাহরণ- তেমনি হিমালয়, শিল্পাগার প্রভৃতি সাধিত শব্দকেও প্রাতিপদিক বলা হয়। এই সূত্র ধরে বলা যায়, বিভক্তিহীন শব্দ মাত্রই প্রাতিপদিক।
ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বিশিষ্ট প্রত্যয়যুক্ত কিন্তু বিভক্তিহীন ধাতু কেউ প্রাতিপদিক বলেছেন। তাঁর মতে, প্রাতিপদিক দুই ভাগে ভাগ বিভক্ত। যথা- (ক) নাম প্রাতিপদিক ও (খ) ক্রিয়া প্রাতিপদিক।
অন্যদিকে,
বিশেষ্য (Noun) হলো এমন একটি পদ, যা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, কাজ, গুণ বা ধারণার নাম বোঝায়।
যেই প্রক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক শব্দ একত্রিত হয়ে একটি নতুন, সংক্ষিপ্ত এবং অর্থবহ শব্দ গঠন করে, যা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও শ্রুতিমধুর করে তোলে, তাকে সমাস বলে।
অব্যয় হলো বাক্যে ব্যবহৃত এমন পদ, যা শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হলেও লিঙ্গ, বচন, কারক বা বিভক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় না, বরং অপরিবর্তিত থেকে দুটি শব্দ বা বাক্যাংশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে ভাব প্রকাশে সহযোগিতা করে।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪. নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ? [১৭তম সি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) বাদী (খ) সভানেত্রী (গ) জেলেনী (ঘ) পেত্নী উ. গ
ব্যাখ্যা : 'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : জেলে-জেলেলি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
এরূপ আরো কিছু উদাহরণ-
'ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী, দাস-দাসী, নর-নারী, পাত্র-পাত্রী ইত্যাদি।
'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ : ইন্দ্র-ইন্দ্রানী, মাতুল-মাতুলানী, শূদ্র-শূদ্রানী, হিম-হিমানী (জমানো বরফ) ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রাণী, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শাশুড়ি, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ : পেত্নী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫. 'দর্শনীয়' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়- [১৬তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) দর্শন + ইয় (খ) দৃশ্য + অনীয় (গ) দৃশ্য + নীয় (ঘ) দর্শন + ঈয় উ. খ
ব্যাখ্যা : কৃৎ প্রত্যয় হলো সেইসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন- $\sqrt{\text{দৃশ}}$ + অনীয় = দর্শনীয়।
কৃৎ প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা- (ক) বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। উপর্যুক্ত 'দর্শনীয়' শব্দটিতে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'অনীয়' ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং 'দর্শনীয়' শব্দটি সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬. বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে- [১৫তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) প্রাতিপদিক (খ) সাধিত শব্দ (গ) নামপদ (ঘ) ক্রিয়াপদ উ. ক
ব্যাখ্যা : বিভক্তিহীন নামশব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক বা নামপ্রকৃতি। সাধারণভাবে ক্রিয়া কিংবা নামশব্দের মূল অংশ হলো প্রকৃতি।
অন্যদিকে,
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
যে শব্দগুলো বাক্যে বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় হিসেবে কাজ করে, তাদের সম্মিলিতভাবে নামপদ বলা হয়।
যে পদ দিয়ে কোনো কাজ করা, হওয়া ইত্যাদি বোঝায় সেগুলোকে বলে ক্রিয়াপদ। উল্লেখ্য যে, নামপদগুলো বাক্যে কখনোই ক্রিয়াপদের ভূমিকা পালন করতে পারে না।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭. 'দীপ্যমান' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় সঠিক কোনটি? [১৪তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) $\sqrt{\text{দীপ্য}}$ + মান (খ) $\sqrt{\text{দিপ্য}}$ + মানচ (গ) $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ (ঘ) $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ উ. ব্যাখ্যা দেখুন
ব্যাখ্যা : 'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ্ (মান)।
এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। এছাড়াও 'শানচ্' প্রত্যয়যোগে গঠিত আরও শব্দ হলো চলমান, বর্ধমান ইত্যাদি।
৮. 'নয়ন'-শব্দটির সঠিক প্রত্যয় নির্ণয়- [১৩তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) নী + অন (খ) নে + অন (গ) নৌ + অন (ঘ) নয় + ন উ. ক
ব্যাখ্যা : 'নয়ন' শব্দটি বাংলা কৃদন্ত শব্দ। শব্দটির ধাতু '$\sqrt{\text{নী}}$' ও বাংলা কৃৎ প্রত্যয় 'অন'।
অর্থাৎ, নয়ন = নী + অন। স্বরসন্ধির নিয়ম অনুসারে, 'ই' ধ্বনির পরে 'অ' ধ্বনি এলে, উভয় মিলে 'য়' ধ্বনি তৈরি হয়। এই সূত্রানুসারে, $\sqrt{\text{নী}}$ ধাতুর 'ই' ধ্বনির সঙ্গে 'অন' প্রত্যয় (ই + অ = য়) যুক্ত হয়ে 'নয়ন' কৃদন্ত শব্দটি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯. 'পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১২তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) পাঠ + অক (খ) $\sqrt{\text{পঠ}}$ + অক (গ) পা + ঠক (ঘ) পাঠ + টক উ. খ
ব্যাখ্যা : কৃৎ প্রত্যয় সাধিত 'পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় = $\sqrt{\text{পঠ}}$ + অক। কৃদন্ত শব্দ '$\sqrt{\text{পঠ}}$' অংশটি হলো ধাতু আর 'অক' হলো সংস্কৃত প্রত্যয়। অর্থাৎ, পাঠক শব্দটি হলো সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০. প্রত্যয় কয় প্রকার? [১১তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) এক (খ) দুই (গ) তিন (ঘ) চার উ. খ
ব্যাখ্যা : প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: (ক) কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) তদ্ধিত প্রত্যয়।
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন- $\sqrt{\text{চল}}$ (ধাতু) + অন্ত (প্রত্যয়) = চলন্ত, $\sqrt{\text{কৃ}}$ (ধাতু) + তব্য (প্রত্যয়) = কর্তব্য প্রভৃতি।
উল্লেখ্য যে, বাংলা ভাষায় দুইধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: (ক) বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
তদ্ধিত প্রত্যয় : নামশব্দের শেষে যেসব ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন– চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা, ডিঙি + আ = ডিঙা, বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা প্রভৃতি।
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা:
(ক) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
(খ) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
(গ) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১১. কোনটি কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ? [১০তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) ঢাকা + ই (খ) মিশ্ + উক (গ) চোর + আ (ঘ) সোনা + আলি উ. খ
ব্যাখ্যা : নামশব্দ বা ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: (ক) কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) তদ্ধিত প্রত্যয়। কোনো একটি প্রত্যয় কৃৎ নাকি তদ্ধিত হবে, তা নির্ভর করে প্রত্যয়টি নামশব্দ নাকি ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার উপর।
উপর্যুক্ত মিশ্ + উক = মিশুক হলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ। কারণ 'মিশুক' কৃদন্ত শব্দটিতে ক্রিয়ামূল বা ধাতু '$\sqrt{\text{মিশ্}}$'-এর সঙ্গে প্রত্যয় হিসেবে 'উক' যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, উদাহরণগুলোর ঢাকা, চোর, সোনা প্রতিটি অংশই নামশব্দ বা নামপদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
১২. নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ? [১৮তম সি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) হাত + ল = হাতল (খ) চল্ + অন্ত = চলন্ত (গ) রাধ্ + না = রান্না (ঘ) কোনোটিই নয় উ. ক
ব্যাখ্যা : নামশব্দের শেষে যেসব ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন- হাত + ল = হাতল। এখানে 'হাত' হচ্ছে নামশব্দ ও 'ল' হচ্ছে তদ্ধিত প্রত্যয়।
Concrete, $\sqrt{\text{চল্}}$ + অন্ত = চলন্ত ও $\sqrt{\text{রাধ্}}$ + না = রান্না হলো কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। কারণ $\sqrt{\text{চল্}}$ ও $\sqrt{\text{রাধ্}}$ উভয়ই হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩. 'শ্রবণ' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৭তম সি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) শ্রবণ + অ (খ) $\sqrt{\text{শ্রী}}$ + অন (গ) $\sqrt{\text{শ্রু}}$ + অন (ঘ) $\sqrt{\text{শ্রব}}$ + অন উ. গ
ব্যাখ্যা : 'শ্রবণ' কৃদন্ত শব্দটিকে ভাঙলে ধাতু বা ক্রিয়ামূল '$\sqrt{\text{শ্রু}}$' ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'অন' পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪. 'মুক্তি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৭তম সি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) $\sqrt{\text{মুচ্}}$ + ক্তি (খ) $\sqrt{\text{মুহ্}}$ + ক্তি (গ) $\sqrt{\text{মুক্}}$ + ক্তি (ঘ) $\sqrt{\text{মুচ্}}$ + তি উ. ক
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ 'মুক্তি' বিশ্লেষণ করলে ধাতু '$\sqrt{\text{মুচ্}}$' ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'ক্তি' পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে যদি কোনো ধাতুর শেষে চ বা ছ থাকে, তবে 'ক্ত' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় ওই 'চ' বা 'ছ' এর স্থলে 'ক্' হয়ে যায়। যেমন- $\sqrt{\text{মুচ্}}$ + ক্তি = মুক্তি, $\sqrt{\text{ভজ্}}$ + ক্তি = ভক্তি প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫. ক্রিয়া বা ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলে- [১৬তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ধাতু প্রত্যয় (খ) শব্দ প্রত্যয় (গ) কৃৎ প্রত্যয় (ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয় উ. গ
ব্যাখ্যা : ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। যেমন- পড়্ + আ = পড়া। এখানে 'পড়া' শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুজ্ঞাপক চিহ্ন $\sqrt{}$ বসে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৬. নিচের কোন শব্দটি প্রাতিপদিক? [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) লাঙ্গল (খ) দম্পতি (গ) লেখা (ঘ) সাধিত উ. ক
ব্যাখ্যা : বিভক্তিহীন নামশব্দ বা নামপদকে প্রাতিপদিক বলা হয়। উদাহরণ- মন, হাত প্রভৃতি। উপর্যুক্ত উদাহরণের 'লাঙ্গল' একটি মৌলিক নামশব্দ। এর সঙ্গে কোনো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয়নি। এই সূত্র ধরে 'লাঙ্গল' শব্দটি প্রাতিপদিক।
অন্যদিকে, 'দম্পতি' একটি সমাসবদ্ধ শব্দ (জায়া ও পতি = দম্পতি); 'লেখা' একটি কৃদন্ত শব্দ ($\sqrt{\text{লিখ্}}$ + আ = লেখা)। আর 'সাধিত' একটি কৃদন্ত বিশেষণ পদ (সাধন + ইত = সাধিত)।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৭. 'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) $\sqrt{\text{দীপ্য}}$ + মান (খ) $\sqrt{\text{দিপ্য}}$ + মানচ (গ) $\sqrt{\text{দিপ}}$ + শানচ (ঘ) $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ্ (মান)। এছাড়াও 'শানচ্' প্রত্যয়যোগে গঠিত আরও শব্দ হলো চলমান, বর্ধমান, বর্তমান ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৮. কোনটি 'নিপাতনে সিদ্ধ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ? [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) শৈব (খ) সৌর (গ) দৈব (ঘ) চৈত্র উ. খ
এখানে আপনার আপলোড করা পঞ্চম পেজের সম্পূর্ণ টেক্সট নির্ভুলভাবে টাইপ এবং ফরম্যাট করে দেওয়া হলো:
বাংলা ❑ ৩৫
ব্যাখ্যা : নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয় বলতে বোঝায় সেইসব প্রত্যয়কে, যা ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম মেনে গঠিত হয় না, বরং কিছু ব্যতিক্রমী ও প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ শব্দ গঠনে ব্যবহৃত হয়। যেমন– বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি, বনস্পতি = বন + পতি, পরস্পর = পরপর প্রভৃতি।
উপর্যুক্ত উদাহরণগুলোর মধ্যে 'সৌর' হলো নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয়। প্রকৃতি-প্রত্যয়ের সাধারণ নিয়মে অনুসারে সুর + ষ্ণ (অ) = সৌর হতো। নিপাতনে সিদ্ধ হওয়ার কারণে সূর্য + ষ্ণ = সৌর হয়েছে।
অন্যদিকে, 'শৈব'- শিব + ষ্ণ (অ), 'দৈব'- দেব + ষ্ণ (অ), 'চিত্র' + ষ্ণ (অ) সবগুলোই প্রকৃতি প্রত্যয়ের নিয়ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৯. গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয়- [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তনকে (খ) কৃৎ-প্রকৃতির অন্ত্যস্বরের পরিবর্তনকে
(গ) নাম-প্রকৃতির পরিবর্তনকে (ঘ) প্রাতিপদিকের পরিবর্তনকে উ. ক
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণে গুণ ও বৃদ্ধি হলো স্বরধ্বনির পরিবর্তন, যা মূলত সংস্কৃত থেকে আগত ক্রিয়ামূল বা ধাতুতে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হলে ঘটে। যেমন- $\sqrt{\text{নী}}$ + আ = নেওয়া।
(১) গুণের ক্ষেত্রে স্বরধ্বনির তিন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যথা-
ই, ঈ $\rightarrow$ এ হয়;
উ, ঊ $\rightarrow$ ও;
ঋ $\rightarrow$ অর হয়।
(২) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বরধ্বনির তিন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যথা-
অ-স্থলে আ,
ই ও ঈ $\rightarrow$ ঐ;
উ ও ঊ $\rightarrow$ ঔ;
ঋ $\rightarrow$ আর হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২০. 'বক্তব্য'-এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি? [১৪তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) $\sqrt{\text{বক্}}$ + তব্য (খ) $\sqrt{\text{বক্}}$ + অব্য
(গ) $\sqrt{\text{বক্ত}}$ + ব্য (ঘ) $\sqrt{\text{বচ্}}$ + তব্য উ. ঘ
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ 'বক্তব্য' বিশ্লেষণ করলে ধাতু '$\sqrt{\text{বচ্}}$' ও সংস্কৃতি কৃৎ প্রত্যয় 'তব্য' পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে, যদি কোনো ধাতুর শেষে চ বা ছ থাকে, তবে 'ত' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় ওই 'চ' বা 'ছ' এর স্থলে 'ক্' হয়ে যায়। যেমন- $\sqrt{\text{বচ্}}$ + তব্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১. নিচের কোনটি 'সৃষ্টি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয়? [১৪তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) $\sqrt{\text{সৃষ্}}$ + টি (খ) $\sqrt{\text{সৃষ্}}$ + তি (গ) $\sqrt{\text{সৃজ্}}$ + তি (ঘ) $\sqrt{\text{স্রী}}$ + টি উ. গ
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ 'সৃষ্টি' বিশ্লেষণ করলে ধাতু '$\sqrt{\text{সৃজ্}}$' ও সংস্কৃতি কৃৎ প্রত্যয় 'তি' পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে, যদি কোনো ধাতুর শেষে 'জ্' থাকে, তবে 'ত' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় ওই 'জ্' এর স্থলে 'ষ্' হয়, এবং 'ত' প্রত্যয়টি পরিবর্তিত হয়ে 'ট' হয়ে যায়। যেমন- $\sqrt{\text{সৃজ্}}$ + তি = সৃষ্টি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২. 'মানব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৩তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) মনু + ষ্ণ (খ) মনু + অব
(গ) মা + নব (ঘ) মান + অব উ. ক
ব্যাখ্যা : 'মানব' একটি বাংলা তদ্ধিতান্ত শব্দ। এই শব্দটিকে ভাঙলে নামশব্দ 'মনু' ও বাংলা তদ্ধিতप्रत्यय ষ্ণ (অ) পাওয়া যায়।
২৩. 'মহিমা' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৩তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) মহি + মা (খ) মহৎ + ইমন
(গ) মহা + ইমা (ঘ) মহিম + আ উ. খ
ব্যাখ্যা : 'মহিমা' তদ্ধিতান্ত শব্দের নামপদ অর্থাৎ প্রকৃতি হলো মহৎ ও সংস্কৃত তদ্ধিতান্ত প্রত্যয় হলো ইমন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
২৪. নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ? [১২তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) বাদী (খ) সভানেত্রী (গ) জেলেনি (ঘ) পেত্নী উ. গ
ব্যাখ্যা : নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
এ রকম কয়েকটি প্রত্যয় হলো:
আ প্রত্যয় : বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা;
ই প্রত্যয় : দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি;
ইনি প্রত্যয় : কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি;
ইনী প্রত্যয় : বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী;
ঈ প্রত্যয় : কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী;
নি প্রত্যয় : জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি;
বতী প্রত্যয় : গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২৫. 'শৈশব'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১২তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) শিশু + ষ্ণ (খ) শিশু + ষ্ণ্য
(গ) শিশু + শব্দ (ঘ) শৈ + শব উ. ক
লিঙ্গ/পুরুষবাচক শব্দ, দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব, পদাশ্রিত নির্দেশক ও বচন
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ০ | ২ | ১ | ১৩তম | ০ | ০ | ১ | ৮ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৭তম | ০ | ২ | ১ | ১২তম | ০ | ২ | ২ | ৭ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৬তম | ১ | ১ | ১ | ১১তম | ১ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ০ | ০ | ০ |
| ১৫তম | ০ | ১ | ২ | ১০ম | ০ | ১ | ১ | বিশেষ | ০ | ০ | ০ |
| ১৪তম | ০ | ১ | ২ | ৯ম | ০ | ০ | ০ | মোট | ২ | ১২ | ১৩ |
কলেজ পর্যায়
১. 'সাথী' শব্দটি কোন লিঙ্গ? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) পুংলিঙ্গ (খ) স্ত্রীলিঙ্গ
(গ) ক্লীব লিঙ্গ (ঘ) উভয় লিঙ্গ উ. ঘ
ব্যাখ্যা: 'সাথী' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তাই 'সাথী' শব্দটি উভয় লিঙ্গ।
যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-
i. পুংলিঙ্গ ii. স্ত্রীলিঙ্গ iii. ক্লীবলিঙ্গ iv. উভয়লিঙ্গ।
উভয়লিঙ্গ: যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে। উদাহরণ- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি, জন, পাখি, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু, মানুষ, বাঙালি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
২. কোনটি নিত্য নারীবাচক শব্দ? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) জেনানা (খ) সতীন (গ) শিক্ষিকা (ঘ) ধাত্রী উ. খ
ব্যাখ্যা: নিত্য নারীবাচক শব্দ সতীন।
অন্যান্য অপশন:
জেনানা, শিক্ষিকা, ধাত্রী শব্দগুলো স্ত্রীলিঙ্গ যাদের পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে মরদ, শিক্ষক, দাতা।
সাধারণত নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের। যথা:
i. পত্নীবাচক ও ii. অপত্নীবাচক
পত্নীবাচক: স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক বুঝালে তা পত্নীবাচক শব্দ হয়। যেমন- দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, জেলে-জেলেনি ইত্যাদি।
অপত্নীবাচক: স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক না বুঝালে তা অপত্নীবাচক শব্দ হয়। যেমন- খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী ইত্যাদি।
কিছু শব্দ আছে যা নিত্য নরবাচক ও নিত্য নারীবাচক।
নিত্য নারীবাচক/স্ত্রীবাচক শব্দ: কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, বিধবা, দাই, বারবনিতা, কুলটা, অরক্ষণীয়া, অসূর্যম্পশ্যা, সপত্নী, গর্ভবতী, ডাইনী ইত্যাদি।
নিত্য নরবাচক শব্দ: কৃতদার, অকৃতদার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
স্কুল পর্যায়
৩. 'আমি' শব্দটি কোন লিঙ্গ? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪, ১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) পুংলিঙ্গ (খ) স্ত্রী লিঙ্গ (গ) ক্লীব লিঙ্গ (ঘ) উভয় লিঙ্গ উ. ঘ
ব্যাখ্যা: 'আমি' শব্দটি উভয়লিঙ্গ।
উভয়লিঙ্গ: বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ।
বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা-
i. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ- বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর ইত্যাদি।
ii. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ- মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী ইত্যাদি।
iii. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ- মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি ইত্যাদি।
iv. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ- বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৪. কোনটির আগে স্ত্রীবাচক শব্দ যুক্ত করে লিঙ্গান্তর করতে হয়? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪, ১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) নেতা (খ) কবি (গ) দাতা (ঘ) বাদশাহ উ. খ
ব্যাখ্যা: কবি শব্দের আগে মহিলা যুক্ত করে লিঙ্গান্তর করতে হয়। তাহলে, কবি = মহিলা কবি।
কতগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন-
| ডাক্তার - মহিলা ডাক্তার | সভা - মহিলা সভা |
| কর্মী - মহিলা কর্মী | শিল্পী - মহিলা/নারী শিল্পী |
| পুলিশ - মহিলা পুলিশ | সৈন্য - মহিলা/নারী সৈন্য |
অন্যান্য অপশন:
নেতা = নেত্রী
দাতা = দাত্রী
বাদশাহ = বেগম
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন)।
৫. 'রজক'-এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) রজকা (খ) রজকী (গ) রজকিনী (ঘ) রজকানী উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
রজক (বিশেষ্য): বাংলা শব্দ
অর্থ: ধোপা
স্ত্রীবাচক শব্দ: রজকিনী।
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে 'রজক'-এর স্ত্রীবাচক শব্দ রজকী।
কতগুলো পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়। যেমন-
| গোয়ালা = গোয়ালিনী | কাঙাল = কাঙালিনী |
| বিহঙ্গ = বিহঙ্গিনী | সাপ = সাপিনী |
| সন্ন্যাস = সন্ন্যাসিনী | বাঘ = বাঘিনী |
৬. নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) জেঠী (খ) পাগলী (গ) বেগামী (ঘ) সৎমা উ. ঘ
ব্যাখ্যা: সৎমা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন- সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশন:
জেঠী, পাগলী, বেগমী শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে জেঠা, পাগল, বেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭. 'নাটিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) সমার্থে (খ) ক্ষুদ্রার্থে (গ) বৃহৎ অর্থে (ঘ) বিপরীতার্থে উ. খ
ব্যাখ্যা: 'নাটিকা' ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।
'ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন-
| নাটক = নাটিকা | মালা = মালিকা |
| গীত = গীতিকা | পুস্তক = পুস্তিকা |
এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।
উল্লেখ, বৃহৎ অর্থে 'আনী'-প্রত্যয় যোগে অরণ্য = অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮. নিচের কোন শব্দটির পুরুষ বাচক শব্দ নেই? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) বাদী (খ) দাত্রী (গ) তাদৃশী (ঘ) ডাইনী উ. ঘ
ব্যাখ্যা: ডাইনী শব্দটির পুরুষ বাচক শব্দ নেই। এটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
কিছু নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: সপত্নী, বিধবা, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, ডাইনী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া।
কিছু নিত্য পুরুষবাচক কিছু শব্দ: কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৯. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) ডাইনি (খ) সম্রাজ্ঞী (গ) মানুষ (ঘ) সভানেত্রী উ. ক
ব্যাখ্যা: ডাইনি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। কিছু কিছু স্ত্রীবাচক শব্দের পুরুষবাচক শব্দ নেই, তাদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ শব্দ বলে। যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতি লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, পেত্নী, ডাইনি, শাঁখচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সম্রাজ্ঞী- সম্রাট এর স্ত্রীবাচক শব্দ।
মানুষ - উভয় লিঙ্গ।
সভানেত্রী- সভাপতি এর স্ত্রীবাচক শব্দ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১০. 'মরদ'-এর বিপরীত লিঙ্গ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) মর্দ (খ) জেনানা (গ) জেনানী (ঘ) মরদী উ. খ
ব্যাখ্যা: 'মরদ'-এর বিপরীত লিঙ্গ জেনানা।
কয়েকটি বিদেশি নারী বাচক শব্দ-
| খান-খানম | মালেক-মালেকা |
| মুহতামিম-মুহতামিমা | সুলতান-সুলতানা |
| মরদ-জেনানা | বাদশা-বেগম |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১১. বাংলা ব্যাকরণ কোন পদে সংস্কৃতির লিঙ্গের নিয়ম মানে না? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) বিশেষণ (খ) অব্যয় (গ) সর্বনাম (ঘ) বিশেষ্য উ. ক
ব্যাখ্যা: বাংলা ব্যাকরণের বিশেষণ পদ সংস্কৃত লিঙ্গের নিয়ম মানে না।
তৎসম (সংস্কৃত) পুরুষবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে পুরুষবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয় এবং স্ত্রীবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে স্ত্রীবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়। যেমন-
বিদ্যান লোক এবং বিদুষী নারী। এখানে, 'লোক' পুরুষবাচক বিশেষ্য এবং 'নারী' স্ত্রীবাচক বিশেষ্য। 'বিদ্যান' পুরুষবাচক বিশেষণ এবং 'বিদুষী' স্ত্রীবাচক বিশেষণ।
কিন্তু, বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের এ নিয়ম মানা হয় না। যেমন- সংস্কৃতে 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দরী বালিকা' হবে কিন্তু বাংলায় 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দর বালিকা' হবে।
লিঙ্গ পরিবর্তনের কিছু নিয়ম:
বাংলা লিখিত ভাষায় কখনো কখনো সংস্কৃত প্রধান শৈলীতে বিশেষ্য ও বিশেষণের লিঙ্গসাযুজ্য ঘটে। যেমন- দুষ্ক্রিণী, অভাগিনী, বিপুলা।
বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
তৎসম পুরুষবাচক শব্দের শেষে -আ, -ঈ, -আনী, -নী ইত্যাদি নারীবাচক প্রত্যয় যোগে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করা হয়।
ভিন্ন ভিন্ন নারীবাচক প্রত্যয় যোগে একই পুরুষবাচক শব্দের একাধিক নারীবাচক রূপ হতে পারে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১২. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) মা (খ) মেয়ে (গ) ছাত্রী (ঘ) সতীন উ. ঘ
ব্যাখ্যা: সতীন নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
মা, মেয়ে, ছাত্রী শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে বাবা, ছেলে, ছাত্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
স্কুল পর্যায়-২
১৩. 'অনাথ'-এর স্ত্রীলিঙ্গ কী? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) অনাথীনি (খ) অনাথিনী (গ) অনাথি (ঘ) নাথবতী উ. খ
ব্যাখ্যা: অনাথ-এর স্ত্রীলিঙ্গ অনাথা।
উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ে অনাথিনী শব্দটি 'অনাথ'-এর স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে, অনাথিনী শব্দটি অপ্রয়োগ। অপশনে 'অনাথা' না থাকায় অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই অনুযায়ী 'অনাথিনী' সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গান্তর :
| হুকু = হুকুরাইন | মৎস্য = মৎস্যী |
| মনুষ্য = মনুষী | মানুষ = মা |
| গো = গবী | বিধাতা = বিধাত্রী |
| শুক = শারি | দুলহা = দুলাইন |
| মর্দা ঘোড়া = মাদি ঘোড়া | ঠাকুর = ঠাকুরুন/ঠাকরুন/ঠাকুরানী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (অষ্টম শ্রেণি)।
১৪. পুরুষ বা স্ত্রী নির্দেশক সূত্রকে ব্যাকরণে কী বলে? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) বচন (খ) লিঙ্গ (গ) বাক্য (ঘ) বাগর্থ উ. খ
ব্যাখ্যা: লিঙ্গের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায় তাকে লিঙ্গ বলে। 'লিঙ্গ' শব্দের অর্থ চিহ্ন। এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ। লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণিবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষার লিঙ্গান্তর নিম্নলিখিতভাবে হয়ে থাকে-
১. পুংলিঙ্গবাচক শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে।
২. স্ত্রীবাচক শব্দ আগে বা পরে বসিয়ে এবং
৩. ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৫. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) কুলটা (খ) যোগিনী (গ) রজকী (ঘ) চাতকী উ. ক
ব্যাখ্যা: কুলটা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
যোগিনী, রজকী, চাতকী শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে যোগী, রজক, চাতক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৬. নিচের কোনটির পুরুষবাচক শব্দ আছে? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) দাই (খ) এয়ো (গ) সারী (ঘ) সধবা উ. গ
ব্যাখ্যা: 'সারী' এর পুরুষবাচক শব্দ- 'শুক'।
তাছাড়া,
অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৭. 'ঠাকুর' শব্দের লিঙ্গান্তর কোনটি? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) ঠাকুরনাইন (খ) ঠাকুরানি (গ) ঠাকুরণী (ঘ) ঠাকুরণি উ. খ
ব্যাখ্যা: 'ঠাকুর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।
'ঠাকুর' শব্দটির 'আনী/আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।
'আনী/আনি' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
| মেথর = মেথরানী | চাকর = চাকরানী |
| হিম = হিমানী | ইন্দ্র = ইন্দ্রানী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৮. 'নী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তর হয়েছে কোন শব্দটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭] (ক) অরণ্যানী (খ) চাকরানী (গ) ভাগনী (ঘ) মেধাবিনী উ. ঘ
ব্যাখ্যা: 'নী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তর হয়েছে = মেধাবি + নী।
'আনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ : অরণ্যানী = অরণ্য + আনী।
'আনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ : চাকরানী = চাকর + আনী।
'ঈ' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ : ভাগনী = ভাগনা+ঈ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, বানানটি ভাগনি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৯. 'শুক' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭] (ক) সারী (খ) শারী (গ) শুকী (ঘ) সারা উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা: 'শুক' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- 'শারি'। উত্তরপত্রের বানান ভুল ছিল। 'সারী'-এর পরিবর্তে 'শারি' হবে। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০. 'নাটিকা' শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬] (ক) সমার্থে (খ) বিপরীতার্থে (গ) ক্ষুদ্রার্থে (ঘ) বৃহৎার্থে উ. গ
ব্যাখ্যা: 'নাটিকা' শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ। এটি 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২১. বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রী বাচক শব্দ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫] (ক) বালক-বালিকা (খ) দুঃখী-দুঃখিনী (গ) খান-খানম (ঘ) নর-নারী উ. ঘ
ব্যাখ্যা: নর থেকে বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নারী। অন্য অপশন:
বালক থেকে বালিকা- ইকা প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
দুঃখী থেকে দুঃখিনী- ইনি/ইনী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
খান থেকে খানম- বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ।
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দের কিছু নিয়ম :
যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়। যেমন- কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী ইত্যাদি।
পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতী, ইয়সী হয়। যথা- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী ইত্যাদি।
কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন- রাজা-রানী, নর-নারী ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২২. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫] (ক) এয়ো (খ) কবিরাজ (গ) সন্তান (ঘ) কৃতদার উ. ক
ব্যাখ্যা: এয়ো- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। অর্থ: সধবা নারী।
অন্যান্য অপশন:
সন্তান- উভয় লিঙ্গ।
কবিরাজ, কৃতদার- নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ : কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, বিচারপতি ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩. কোনটির স্ত্রীলিঙ্গ ভিন্ন শব্দ? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪] (ক) বিদ্বান (খ) গায়ক (গ) কোকিল (ঘ) দাদা উ. ক
ব্যাখ্যা: অপশনে প্রদত্ত শব্দ গুলোর মধ্যে 'বিদ্বান' এর স্ত্রীবাচক শব্দটি হচ্ছে বিদুষী।
কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না। যেমন- ভাই-বোন, পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, বর-কনে, বাদশা-বেগম, সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শাশুড়ি, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী, বাবা-মা, কর্তা-গিন্নি, সাহেব-বিবি, জামাই-মেয়ে, দুলহা-দুলাইন/দুলহিন, বেয়াই-বেয়াইন, তাতই-মাঐ, শুক-শারী ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশন:
গায়ক এর স্ত্রীবাচক শব্দ গায়িকা (ইকা প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
কোকিল এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোকিলা (আ প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
দাদা এর স্ত্রীবাচক শব্দ দিদি (বড় বোন)/বৌদি (দাদার স্ত্রী)। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৪. কোনটির শুধুমাত্র স্ত্রীবাচক হয়? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪] (ক) সন্তান (খ) সতীন (গ) ঢাকী (ঘ) ঘোষজা উ. খ
ব্যাখ্যা: সতীন নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এসকল শব্দের শুধুমাত্র স্ত্রীবাচক হয়ে থাকে। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। কিছু নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হলো- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সন্তান = উভয় লিঙ্গ।
ঢাকী = নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
ঘোষ (পুরুষ) = ঘোষজা (কন্যা অর্থে)/ঘোষজায়া (পত্নী অর্থে)। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৫. কোন শব্দটির কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ হয় না? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) অজ (খ) নর (গ) কবিরাজ (ঘ) কবি উ. গ
ব্যাখ্যা: কবিরাজ শব্দটির কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ হয় না। কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
অজ - অজা (আ প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
নর - নারী (আলাদা স্ত্রীবাচক শব্দ)।
কবি - মহিলা কবি (পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
সমাস
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ১ | ২ | ২ | ১৩তম | ২ | ২ | ২ | ৮ম | ৬ | ২ | ০ |
| ১৭তম | ৩ | ২ | ১ | ১২তম | ১ | ২ | ২ | ৭ম | ৮ | ৩ | ০ |
| ১৬তম | ২ | ২ | ৪ | ১১তম | ১ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ৫ | ৫ | ০ |
| ১৫তম | ১ | ১ | ২ | ১০ম | ১ | ২ | ২ | বিশেষ | ০ | ৪ | ০ |
| ১৪তম | ২ | ১ | ২ | ৯ম | ৩ | ২ | ০ | মোট | ৩৬ | ৩২ | ১৯ |
কলেজ পর্যায়
১. 'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) অব্যয়ীভাব সমাস
(গ) দ্বিগু সমাস (ঘ) কর্মধারয় সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা: সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিস্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়। যেমন-
| তিন মাথার সমাহার | তেমাথা |
| তিন ফলের সমাহার | ত্রিফলা |
| তিন প্রান্তরের সমাহার | তেপান্তর |
| তিন পদের সমাহার | ত্রিপদী |
| তিন কালের সমাহার | ত্রিকাল |
| তিন লোকের সমাহার | ত্রিলোক |
| সপ্ত অহের সমাহার | সপ্তাহ |
| পঞ্চ ঋষির সমাহার | পঞ্চর্ষি |
| শত অব্দের সমাহার | শতাব্দী |
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২. কোনটি 'উপপদ তৎপুরুষের' উদাহরণ? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) ছেলেধরা (খ) প্রতিবাদ
(গ) বিলাতফেরত (ঘ) উপগ্রহ উ. ক
ব্যাখ্যা: 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন-
| পঙ্কে জন্মে যা | পঙ্কজ |
| জাদু করে যে | জাদুকর |
| ইন্দ্রকে জয় করেছে যে | ইন্দ্রজিৎ |
| ছেলে ধরে যে | ছেলেধরা |
| পকেট মারে যে | পকেটমার |
| স্থলে চলে যে | স্থলচর |
| চিত্র আঁকে যে | চিত্রকর |
| মানুষ খায় যে | মানুষখেকো |
বিলাতফেরত = বিলাত থেকে ফেরত : পঞ্চমী তৎপুরুষ।
প্রতিবাদ = বিরুদ্ধ বাদ : অব্যয়ীভাব সমাস।
উপগ্রহ = গ্রহের সদৃশ : অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩. সমাসবদ্ধ পদ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) আকাশ (খ) ছাড়পত্র (গ) মৃত্তিকা (ঘ) সাগর উ. খ
ব্যাখ্যা: ছাড়পত্র শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ কারণ এটি দুটি বা তার বেশি শব্দের সংযোজন দ্বারা গঠিত। এর মধ্যে 'ছাড়' এবং 'পত্র' দুইটি শব্দ একত্রিত হয়ে একটি নতুন অর্থ তৈরি করেছে।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা-
| ছাড়ের জন্য পত্র | ছাড়পত্র |
| মরণের নিমিত্তে কাঠি | মরণকাঠি |
| গুরুকে ভক্তি | গুরুভক্তি |
| আরামের জন্য কেদারা | আরামকেদারা |
| বসতের নিমিত্ত বাড়ি | বসতবাড়ি |
| বিয়ের জন্য পাগলা | বিয়েপাগলা |
| তপের নিমিত্ত বন | তপোবন |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৪. কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস-এর উদাহরণ? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) চিরসুখী (খ) দশানন (গ) গায়েহলুদ (ঘ) কানাকানি উ. ঘ
ব্যাখ্যা: যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| কানে কানে যে কথা | কানাকানি |
| লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ | লাঠালাঠি |
| কোলে কোলে যে মিলন | কোলাকুলি |
| চুলে চুলে যে লড়াই | চুলাচুলি |
| গালে গালে যে লড়াই | গালাগালি |
| ঘুষিতে ঘুষিতে যে লড়াই | ঘুষাঘুষি |
এরূপ- কাড়াকাড়ি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি ইত্যাদি।
চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী : দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
দশানন = দশ আনন (মুখ) যার : সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।
গায়েহলুদ = গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে : মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫. 'কৃতবিদ্য' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) কৃত যে বিদ্যা (খ) কৃত যে বিদ্যা (গ) কৃত বিদ্যা যার (ঘ) কৃত হয়েছে যার বিদ্যা উ. গ
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| কৃত বিদ্যা যার | কৃতবিদ্য |
| ঘরের দিকে মুখ যার | ঘরমুখো |
| ঈষৎ উজ্জ্বল যা | ঈষদোজ্জ্বল |
| বহু ব্রীহি আছে যার | বহুব্রীহি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৬. কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) অব্যয়ীভাব (খ) বহুব্রীহি (গ) দ্বন্দ্ব (ঘ) কর্মধারয় উ. ঘ
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল।
অন্যান্য অপশন:
দ্বন্দ্ব সমাস: দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। যেমন- সোনা ও রূপা = সোনা-রূপা।
বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
অব্যয়ীভাব সমাস: পূর্বপদে অব্যয় যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়। যেমন- কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭. 'অনেক' শব্দটি- [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) অলুক তৎপুরুষ (খ) উপপদ তৎপুরুষ (গ) নঞ তৎপুরুষ (ঘ) নিত্য সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা: নঞ তৎপুরুষ সমাস- নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন-
| নয় এক = অনেক | নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস |
| নয় সুখ = অসুখ | নাই হয়া = বেহায়া |
| নয় উচিত = অনুচিত | নাই আহার = অনাহার |
এছাড়া সংস্কৃত নঞ অব্যয়ের বাংলা প্রতিরূপ রূপে অ, অন, আনা, গর, বে, বি, ন, না, নি ইত্যাদি এসেছে। যেমন-
| ন আচার = অনাচার | অ আদি যার = অনাদি |
| ন জ্ঞান যার = অজ্ঞান | ন কাতর = অকাতর |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮. কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) অনূগৃহূ (খ) মিলের অভাব (গ) স্ত্রীর অভাব (ঘ) প্রকৃষ্ট গতি উ. ক (নোট: মূল বইয়ের অপশন ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী)
ব্যাখ্যা: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। শব্দের শেষে 'মাত্র' 'অন্তর' যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়। যেমন :
| অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর | অন্য দেশ = দেশান্তর |
| কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র | কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র |
| কেবল বলা = বলা মাত্র | অন্য রূপ = রূপান্তর |
আরও কিছু নিত্যসমাস এর উদাহরণ হচ্ছে- ৯২ (বিরানব্বই), কালসাপ, চহিবামাত্র, কেবলমাত্র ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৯. উপকণ্ঠ-শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) কণ্ঠের সমীপে (খ) কণ্ঠের সদৃশ (গ) উপ যে কণ্ঠ (ঘ) কণ্ঠ পর্যন্ত উ. ক
ব্যাখ্যা: উপকণ্ঠ-শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য = কণ্ঠের সমীপে। এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
অব্যয়ীভাব সমাস : যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস। অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়। যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।
সামীপ্য (নিকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। যেমন-
| কূলের সমীপে = উপকূল | নগরীর সমীপে = উপনগরী |
| ঈষৎ নত = আনত | কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ |
| অক্ষির সমীপে = সমক্ষ | ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১০. কোনটি তৎপুরুষ সমাস? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) ভালো মন্দ (খ) মধুমাখা (গ) যথাসাধ্য (ঘ) সত্যনিষ্ঠ উ. খ
ব্যাখ্যা: মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা; তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাস : সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
| দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত |
| ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো |
সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ-
| মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা | চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা |
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
| গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি | তেলে ভাজা = তেলোভাজা |
অন্যদিকে,
ভালোমন্দ = ভালো ও মন্দ : দ্বন্দ্ব সমাস।
যথাসাধ্য = সাধ্যকে অতিক্রম না করে : অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১১. কোনটি দ্বিগু সমাস? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) সপ্তাহ (খ) পরিভ্রমণ (গ) আমরণ (ঘ) মনগড়া উ. ক
ব্যাখ্যা: সপ্তাহ (সপ্ত অহের সমাহার) দ্বিগু সমাস। সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- চতুরঙ্গ, শতাব্দী, ত্রিফলা, চৌরাস্তা ইত্যাদি।
বর্তমানে নতুন সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে সমাসের প্রকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরিভ্রমণ = পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ : প্রাদি সমাস।
আমরণ = মরণ পর্যন্ত : অব্যয়ীভাব সমাস।
মনগড়া = মন দিয়ে গড়া : তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১২. 'বীণাপাণি' কোন সমাস? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) তৎপুরুষ সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. ঘ
ব্যাখ্যা: বীণাপাণি (বীণা পাণিতে যার) হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস : বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ | কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব |
| পাপে মতি যার = পাপমতি | পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ |
| ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি | নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ |
| দুষ্টে মতি যার = দুষ্টমতি | নদী মাত যার = নদীমাতৃক |
| ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ | ঊর্ধ্ব নাভিতে যার = ঊর্ধ্বনাভ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৩. সমাস নির্ণয় করুন 'ধানের ক্ষেত'- [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ (খ) বহুব্রীহি
(গ) কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. ক
ব্যাখ্যা: পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন-
| ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত | চায়ের বাগান = চাবাগান |
| রাজার পুত্র = রাজপুত্র | খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট |
| ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ | দেশের সেবা = দেশসেবা |
| দিল্লির ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর | ছবির ঘর = ছবিঘর |
| বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা | মৃগীর শিশু = মৃগশিশু |
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪. সমাস নির্ণয় করুন- বেআইনি। [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) অব্যয়ীভাব (খ) নঞ তৎপুরুষ
(গ) উপপদ তৎপুরুষ (ঘ) নিত্য সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা: পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 'বেআইনি' তৎপুরুষ সমাস-এর একটি প্রকার নঞ তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৫. অব্যয়ীভাব সমাসে 'অব্যয়' পদের অর্থ? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) পরিবর্তিত হয় (খ) প্রধান থাকে
(গ) সংকুচিত হয় (ঘ) বৃদ্ধি ঘটে উ. খ
ব্যাখ্যা: 'অব্যয়ীভাব' অর্থ- অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন-
| কূলের সমীপে = উপকূল | দিন দিন = প্রতিদিন |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৬. কোন সমাসে উভয়পদই বিশেষ্য? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) তৎপুরুষ সমাস (ঘ) প্রাদি সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা: সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পূর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
| মাতা ও পিতা = মাতাপিতা | ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ |
দ্বন্দ্ব সমাস নির্ণয়ের সহজ কৌশল : দ্বন্দ্ব সমাস জোড়-প্রকৃতির হয়। এ জোড়শব্দই দ্বন্দ্ব সমাসের অন্যতম পরিচায়ক। এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই বিভক্তিযুক্ত থাকে এবং সমস্তপদে উভয় পদের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য হতে পারে। যেমন- আম ও জাম = আমজাম।
পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষণ হতে পারে। যেমন- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।
পূর্বপদ ও পরপদ উভয় ক্রিয়া বিশেষ্য হতে পারে। যেমন- দেখা ও শুনা = দেখাশুনা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন)।
১৭. 'বীণাপাণি' কোন সমাস? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) বহুব্রীহি (খ) অব্যয়ীভাব (গ) কর্মধারয় (ঘ) তৎপুরুষ উ. ক
ব্যাখ্যা: বহুব্রীহি সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি; এখানে 'বীণা' কিংবা 'পাণি' কোনটির অর্থের প্রাধান্য নেই। বীণাপাণি বলতে সরস্বতী দেবীকে বুঝায়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৮. তৎপুরুষ সমাসে কোন পদ প্রধান? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) পরপদ (খ) পূর্বপদ (গ) উভয়পদ (ঘ) অন্যপদ উ. ক
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পূর্বপদের কারকের বিভক্তি চিহ্ন বা বিভক্তি স্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থই প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- রথকে দেখা = রথ দেখা।
দ্বন্দ্ব সমাসের উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।
বহুব্রীহি সমাসে অন্যপদ বোঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৯. 'লঙ্কাবাটা'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) লঙ্কা ও বাটা (খ) যা লঙ্কা তাই বাটা
(গ) লঙ্কার বাটা (ঘ) বাটা যে লঙ্কা উ. ঘ
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
| বাটা যে লঙ্কা = লঙ্কাবাটা | কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা |
| মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা | দুষ্ট যে শাসন = দুঃশাসন |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২০. কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) গুরুদেব (খ) মৌমাছি (গ) মহাজন (ঘ) কাঁচামিঠে উ. খ
ব্যাখ্যা: ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
| আয়ের উপর কর = আয়কর | মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি |
| ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত | হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ |
গুরুদেব = যিনি গুরু তিনিই দেব : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
মহাজন = মহৎ যে জন : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
কাঁচামিঠে = যা কাঁচা অথচ মিঠা : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২১. সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমষ্টি বা সমাহার বা মিলন বোঝালে কোন সমাস হয়? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) অব্যয়ীভাব (খ) দ্বিগু (গ) বহুব্রীহি (ঘ) কর্মধারয় উ. খ
ব্যাখ্যা: সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, দ্বিগু সমাস বলে। যেমন-
| তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল | চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা |
| সব রত্নের সমাহার = নবরত্ন | দু আনার সমাহার = দুআনি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২২. যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে কী বলে? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) সমস্তপদ (খ) সমস্যমান পদ
(গ) পূর্বপদ (ঘ) উভয়পদ উ. খ
ব্যাখ্যা: যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে সমস্যমান পদ বলা হয়।
সমাসের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি সংজ্ঞা:
ব্যাসবাক্য : যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। একে সমাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
সমস্ত পদ : ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ।
সমস্যমান পদ : ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে। অর্থাৎ যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে সমস্যমান পদ বলে।
পূর্বপদ : সমস্ত পদের প্রথম অংশ/শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ।
পরপদ/উত্তরপদ : সমস্ত পদের শেষ অংশ/শব্দকে পরপদ/উত্তরপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের শেষ সমস্যমান পদই পরপদ। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে ব্যাসবাক্য হলো- 'সিংহ চিহ্নিত আসন'।
আর সমস্ত পদ হলো 'সিংহাসন'। সমস্যমান পদ হলো 'সিংহ' আর 'আসন'। এদের মধ্যে 'সিংহ' পূর্বপদ, আর 'আসন' পরপদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৩. সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে বলা হয়- [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) উপমান কর্মধারয় (খ) উপমিত কর্মধারয়
(গ) রূপক কর্মধারয় (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় উ. খ
ব্যাখ্যা : উপমিত কর্মধারয় সমাস – সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
উপমান কর্মধারয় সমাস : উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে উপমান বলে।
উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
রূপক কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাস বাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৪. 'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) দ্বিগু (খ) অব্যয়ীভাব
(গ) নিত্য সমাস (ঘ) বহুব্রীহি উ. ক
ব্যাখ্যা : যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন- তিন প্রান্তরের সমাহার = তেপান্তর।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৫. উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয় তাকে কোন সমাস বলে? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) উপমান (খ) উপমিত
(গ) কর্মধারয় (ঘ) উপপদ তৎপুরুষ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন-
| সত্য বলে যে = সত্যবাদী | জলে চরে যা = জলচর |
| পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ | জল দেয় যে = জলদ |
এরূপ- গৃহস্থ, ঘরপোড়া, পাড়াবেড়ানি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৬. কোনটি 'বহুব্রীহি' সমাসের উদাহরণ? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) বিমনা (খ) সজ্জন (গ) প্রভাত (ঘ) নির্ঝঞ্ঝাট উ. ক
ব্যাখ্যা : যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| বিচলিত মন যার = বিমনা | দশ আনন যার = দশানন |
| নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ | সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী |
সজ্জন = সৎ যে জন : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
প্রভাত = প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) : প্রাদি সমাস।
নির্ঝঞ্ঝাট = ঝঞ্ঝাটের অভাব : অব্যয়ীভাব সমাস।
২৭. প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে বস্তুটিকে বলা হয়- [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) রূপক (খ) উপমান (গ) উপমিত (ঘ) উপমেয় উ. ঘ
ব্যাখ্যা : প্রত্যক্ষ কোন বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোন বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়। কেননা 'কেশ' প্রত্যক্ষ বস্তু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৮. 'কাঁচামিঠা'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) কাঁচা ও মিঠা (খ) যা কাঁচা তাই মিঠা
(গ) কাঁচা হয়েও মিঠা (ঘ) কাঁচা যে মিঠা উ. খ
ব্যাখ্যা : 'কাঁচামিঠা' এর ব্যাসবাক্য- যা কাঁচা তা-ই মিঠা। বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের সমাস হলে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হলে তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
এরূপ-
| কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা | দুষ্ যে শাসন = দুঃশাসন |
| মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা | মন রূপ মাঝি = মনমাঝি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৯. সমাস নিষ্পন্ন পদকে কী বলে? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) সমস্যমান পদ (খ) সমস্তপদ
(গ) ব্যাসবাক্য (ঘ) উত্তর পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী পদকে বলা হয় পরপদ বা উত্তর পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৩০. দ্বিগু সমাসে কোন পদ প্রধান? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) পরপদ (খ) পূর্বপদ (গ) উভয় পদ (ঘ) অন্য পদ উ. ক
ব্যাখ্যা : যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থেরই প্রাধান্য পায় তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন, শতবর্ষের সমাহার = শতবার্ষিকী, সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ ইত্যাদি।
৩১. 'নবপৃথিবী'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) নব ও পৃথিবী (খ) নব পৃথিবী যার
(গ) নব পৃথিবীর ন্যায় (ঘ) নব যে পৃথিবী উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'নবপৃথিবী'-এর সঠিক হলো নব যে পৃথিবী। এটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। (নোট: তবে মূল ব্যাখ্যায় এটি কর্মধারয় হওয়ার কথা থাকলেও বইয়ে বহুব্রীহির আলোচনা দেওয়া হয়েছে)
বহুব্রীহি সমাস : যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- নব যে পৃথিবী = নবপৃথিবী, বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
বহুব্রীহি সমাস বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি বলে। যেমন- এক গো যার = একগুঁয়ে, লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে ইত্যাদি।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষণ) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়। যেমন- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফেখেজুরে, বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি ইত্যাদি।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি ইত্যাদি।
ব্যতিহার বহুব্রীহি : পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। যেমন- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ইত্যাদি।
অলুক বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো, মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখে ভাত ইত্যাদি।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩২. 'মনমাঝি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) মন ও মাঝি (খ) মন মাঝির ন্যায়
(গ) মন রূপ মাঝি (ঘ) মন যে মাঝি উ. গ
ব্যাখ্যা : 'মনমাঝি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য = মন রূপ মাঝি।
রূপক কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৩৩. সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) আরবি (খ) ফারসি (গ) সংস্কৃত (ঘ) ইংরেজি উ. গ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪. সমাস শব্দের অর্থ কী? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) বিশ্লেষণ (খ) সংক্ষেপণ (গ) সংযোজন (ঘ) সংশ্লেষণ উ. খ
ব্যাখ্যা : 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
অর্থাৎ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫. 'গায়ে হলুদ' কোন সমাসের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) তৎপুরুষ সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস (ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : 'গায়ে হলুদ' বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস : বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্ত পদে লোপ পায়, তবে তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| বিড়ালের ন্যায় চোখ যে নারীর | বিড়ালচোখী |
| হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে | হাতেখড়ি |
| গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে | গায়েহলুদ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩৬. কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) প্রতিবাদ (খ) বিলাত ফেরত
(গ) উপগ্রহ (ঘ) ছেলেধরা উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস : কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
স্কুল পর্যায়
৩৭. যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেকটি পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে তাকে কোন সমাস বলে? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) দ্বিগু (গ) তৎপুরুষ (ঘ) বহুব্রীহি উ. ক
ব্যাখ্যা : দ্বন্দ্ব সমাস – যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুধপিপাসা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮. নিচের কোনটি নিত্য সমাস? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) পঞ্চনদ (খ) বেয়াদব (গ) দেশান্তর (ঘ) ভালমন্দ উ. গ
ব্যাখ্যা : নিত্য সমাস – যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। এর পরিবর্তে শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়। যেমন-
| অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর | তুমি আমি ও সে = আমরা |
| দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই | কাল তুল্য সাপ = কালসাপ |
সমস্তপদের শেষে 'অন্তর' থাকলে ব্যাসবাক্যে 'অন্য' হবে। যেমন- দেশান্তর = অন্য দেশ। সমস্তপদের শেষে 'মাত্র/খানা' থাকলে 'কেবল' হবে। যেমন- শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।
অন্যদিকে,
ভালমন্দ = ভালো-মন্দ : দ্বন্দ্ব সমাস।
বেয়াদব = আদবের অভাব : অব্যয়ীভাব সমাস।
পঞ্চনদ = পঞ্চ নদের সমাহার : দ্বিগু সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯. 'মুজিববর্ষ' কোন সমাস? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) দ্বিগু সমাস
(গ) কর্মধারয় সমাস (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : কর্মধারয় সমাস – যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন-
| ঘি মাখানো ভাত | ঘিভাত |
| হাতে পরা হয় যে ঘড়ি | হাতঘড়ি |
| ঘরে আশ্রিত জামাই | ঘরজামাই |
| বিজয় নির্দেশক পতাকা | বিজয়-পতাকা |
| মুজিব স্মরণে যে বর্ষ | মুজিববর্ষ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৪০. 'কালান্তর' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) অন্যকাল (খ) ক্ষুদ্রকাল
(গ) কালের অন্তর (ঘ) কাল ও অন্তর উ. ক
ব্যাখ্যা : নিত্য সমাস – যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, অন্য কাল = কালান্তর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪১. 'বীণাপাণি' সমাসবদ্ধপদটি কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ব্যাধিকরণে বহুব্রীহি (খ) ব্যতিহার বহুব্রীহি
(গ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (ঘ) অলুক বহুব্রীহি উ. ক
ব্যাখ্যা : বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস : বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, (অর্থাৎ দুটিই বিশেষ্য হয়) তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| আশীতে (দাঁতে) বিষ যার | আশীবিষ |
| কথা সর্বস্ব যার | কথাসর্বস্ব |
| পাপে মতি যার | পাপমতি |
| পদ্ম নাভিতে যার | পদ্মনাভ |
| ধর্মে মতি যার | ধর্মমতি |
| নীল কণ্ঠ যার | নীলকণ্ঠ |
| দুষ্টে মতি যার | দুষ্টমতি |
| নদী মাতা যার | নদীমাতৃক |
| ধর্মে প্রাণ আছে যার | ধর্মপ্রাণ |
| ঊর্ধ্ব নাভিতে যার | ঊর্ধ্বনাভ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪২. কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) করকমল (খ) কালস্রোত (গ) করপল্লব (ঘ) কচুকাটা উ. খ
ব্যাখ্যা : কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলো- কর্ম + ধৃ + ণিচ + অ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
রূপক কর্মধারয় সমাস : উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয় সমাস। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাস বাক্য গঠন করা হয়। যেমন- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জীবন রূপ স্রোত = জীবনস্রোত, স্নেহ রূপ সুধা = স্নেহসুধা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, কালস্রোত, বিষাদসিন্ধু, ক্রোধানল, মনবাউল, দিলদরিয়া, নীলদরিয়া, প্রাণপাখি ইত্যাদি রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
করকমল = কর কমলের ন্যায় : উপমিত কর্মধারয় সমাস।
করপল্লব = কর পল্লবের ন্যায় : উপমিত কর্মধারয় সমাস।
কচুকাটা = কচুর মতো কাটা : উপমান কর্মধারয় সমাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪৩. 'অরুণরাঙা' কোন সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) উপমিত কর্মধারয় (খ) রূপক কর্মধারয়
(গ) অলুক তৎপুরুষ (ঘ) উপমান কর্মধারয় উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'অরুণরাঙা' উপমান কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ।
উপমান কর্মধারয় : সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা, ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ = ভ্রমরকৃষ্ণ। এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪. 'নীলাম্বর' কোন সমাস? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) তৎপুরুষ (গ) কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. গ
ব্যাখ্যা : যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
| নীল যে অম্বর = নীলাম্বর | নীল যে আকাশ = নীলাকাশ |
| নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম | রক্ত যে কমল = রক্তকমল |
উল্লেখ্য, যে সমাসে পূর্ব বা পর পদ কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| নীল অম্বর যার = নীলাম্বর | দশ আনন যার = দশানন |
| পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ | সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৪৫. 'সিংহপুরুষ' কোন সমাস? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) উপমান কর্মধারয় (খ) উপপদ তৎপুরুষ
(গ) উপমিত কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. গ
ব্যাখ্যা : 'সিংহপুরুষ' উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
সাধারণ গুণের অনুপস্থিতিতে উপমেয় এর সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৪৬. 'মৌমাছি' কোন সমাস? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) কর্মধারয় সমাস (খ) বহুব্রীহি সমাস
(গ) দ্বিগু সমাস (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : 'মৌমাছি = মৌ আশ্রিত মাছি' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাস বাক্যের মধ্যপদ লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। যেমন- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার, মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪৭. পূর্বপদ প্রধান সমাস কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) অব্যয়ীভাব (গ) তৎপুরুষ (ঘ) বহুব্রীহি উ. খ
ব্যাখ্যা : পূর্বপদ প্রধান সমাস = অব্যয়ীভাব সমাস।
অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের, অর্থাৎ পূর্ব ও পর উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন- দোয়াত-কলম, তাল-তমাল ইত্যাদি।
যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- কানে কানে যে কথা = কানাকানি, কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি ইত্যাদি।
[মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নতুন সংস্করণ) অনুসারে অব্যয়ীভাব সমাসকে সমাসের প্রকারভেদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮. কোনটি নিত্য সমাস? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫] (ক) কলছাটা (খ) ভবনদী (গ) জয়ধ্বনি (ঘ) জলমাত্র উ. ঘ
ব্যাখ্যা : জলমাত্র নিত্য সমাস। নিত্য সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্য প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। শব্দের শেষে 'মাত্র', 'অন্তর' যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়। যেমন- গৃহান্তর, গ্রামান্তর, দেশান্তর, দর্শনমাত্র, জলমাত্র ইত্যাদি।
কলছাটা = কল দ্বারা ছাঁটা : অলুক তৎপুরুষ সমাস।
ভবনদী = ভব রূপ নদী : রূপক কর্মধারয় সমাস।
জয়ধ্বনি = জয় সূচক ধ্বনি : মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৪৯. সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) আরবি (খ) ফারসি (গ) সংস্কৃত (ঘ) ইংরেজি উ. গ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত। পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস। সমাসের প্রকারভেদ : বাংলা ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার; যথা- ১) দ্বন্দ্ব সমাস ২) কর্মধারয় সমাস ৩) তৎপুরুষ সমাস ৪) দ্বিগু সমাস ৫) অব্যয়ীভাব সমাস এবং ৬) বহুব্রীহি সমাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫০. নিচের কোনটি নিত্য সমাস? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) পঞ্চনদ (খ) বেয়াদব (গ) দেশান্তর (ঘ) ভালোমন্দ উ. গ
ব্যাখ্যা : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য (সর্বদা) সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। এ সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে বা প্রথম শব্দটি 'অন্য' বা 'কেবল' শব্দটি বসে। যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র ইত্যাদি। উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫১. কোন সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) উপমিত কর্মধারয় (খ) রূপক কর্মধারয় (গ) উপমান কর্মধারয় (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় উ. ক
ব্যাখ্যা : উপমিত কর্মধারয় সমাস – সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ)।
৫২. অলুক-দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ কোনটি? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) দুধে-ভাতে (খ) মাতাপিতা (গ) কমবেশি (ঘ) সাত-পাঁচ উ. ক
ব্যাখ্যা : দুধে-ভাতে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ। অলুক দ্বন্দ্ব : যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে ইত্যাদি।
মাতাপিতা = মাতা ও পিতা : দ্বন্দ্ব সমাস।
কমবেশি = কম ও বেশি : দ্বন্দ্ব সমাস।
সাত-পাঁচ = সাত ও পাঁচ : দ্বন্দ্ব সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩. উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩] (ক) মুখচন্দ্র (খ) ক্রোধানল (গ) তুষারশুভ্র (ঘ) মনমাঝি উ. গ
ব্যাখ্যা : উপমান কর্মধারয় সমাস – যার সাথে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় উপমান কর্মধারয় সমাস। উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমণকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। অনুরূপভাবে, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা প্রভৃতি।
উপমান কর্মধারয় সমাসের আরও কয়েকটি উদাহরণ : নিমিষতিতা, মিশকালো, বিড়ালতপস্বী, বজ্রকঠোর, ইস্পাত কঠিন, শশব্যস্ত, তুষারশীতল, কুসুমকোমল ইত্যাদি।
মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায় : উপমিত কর্মধারয় সমাস।
ক্রোধানল = ক্রোধ রূপ অনল : রূপক কর্মধারয় সমাস।
মনমাঝি = মন রূপ মাঝি : রূপক কর্মধারয় সমাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৫৪. সমাসের রীতি কোন ভাষা হতে আগত? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩] (ক) আরবি (খ) সংস্কৃত (গ) ফারসি (ঘ) ইংরেজি উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত। পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস। সমাসের প্রকারভেদ : বাংলা ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার; যথা- দ্বন্দ্ব সমাস, কর্মধারয় সমাস, তৎপুরুষ সমাস, দ্বিগু সমাস, অব্যয়ীভাব সমাস এবং বহুব্রীহি সমাস। উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫৫. 'আশীবিষ' কোন সমাসের উদাহরণ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) বহুব্রীহি সমাস (খ) দ্বিগু সমাস (গ) দ্বন্দ্ব সমাস (ঘ) নিত্য সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : 'আশীবিষ' ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস : পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষণ হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফেখেজুরে, আশীতে বিষ যার = আশীবিষ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫৬. সমাস সাধিত পদ কোনটি? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) চাষি (খ) মানব (গ) দম্পতি (ঘ) বোনাই উ. গ
ব্যাখ্যা : জায়া ও পতি = দম্পতি সমাস সাধিত পদ। এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
চাষি, বোনাই, মানব শব্দসমূহ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। | | | | :--- | :--- | | চাষ + ই = চাষি | বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত | | বোন + আই = বোনাই | | | মনু + ষ্ণ = মানব | সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫৭. যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটি পদকে কী বলে? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) ব্যাসবাক্য (খ) সমস্যমান পদ (গ) সমস্ত পদ (ঘ) উত্তর পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের কয়েকটি পরিভাষা হলো –
ক. সমস্যমান পদ : যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন-এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।
খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।
গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। 'ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ। একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে সিংহ চিহ্নিত আসন হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।
ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ। 'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলো পূর্বপদ, আর 'আসন' হলো পরপদ বা উত্তরপদ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৫৮. নিচের কোনটি দ্বিগু সমাসের সমস্তপদ? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) সাত সমুদ্র (খ) প্রতিদিন (গ) নীলকণ্ঠ (ঘ) মুখেভাত উ. ক
ব্যাখ্যা : সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- সাত সমুদ্রের সমাহার = সাত সমুদ্র, শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।
প্রতিদিন = দিন দিন : অব্যয়ীভাব সমাস (বীপ্সা বা পুনঃপুনঃ অর্থে)।
নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার : সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
মুখেভাত = মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে : অলুক বহুব্রীহি সমাস।
[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫৯. 'গরমিল'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) মিল ও অমিল (খ) অমিলের সাদৃশ্য (গ) মিলের অভাব (ঘ) গর ও মিল উ. গ
ব্যাখ্যা : 'গরমিল'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য মিলের অভাব। অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন- মিলের অভাব = গরমিল, ঈষৎ নত = আনত, বেলাকে অতিক্রম = উদ্বেল ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬০. ব্যাসবাক্যের অপর নাম কী? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) বিগ্রহ বাক্য (খ) উত্তরপদ (গ) পূর্বপদ (ঘ) সমস্তপদ উ. ক
ব্যাখ্যা : ব্যাসবাক্যের অপর নাম– 'বিগ্রহ বাক্য'। সমাস : সমাস প্রক্রিয়ায় সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে বলা হয় সমস্তপদ। সমস্তপদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয় তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। ব্যাসবাক্য বিগ্রহবাক্য বা সমাসবাক্য নামেও পরিচিত। ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি পদ এক একটি সমস্যমান পদ। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষের অংশকে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ। উদাহরণ- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে, 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো ব্যাসবাক্য। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬১. 'মহাকীর্তি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) মহতী যে কীর্তি (খ) মহা যে কীর্তি
(গ) মহান যে কীর্তি (ঘ) মহান কীর্তি যার উ. ক
ব্যাখ্যা : মহাকীর্তি শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো 'মহতী যে কীর্তি'। এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
কর্মধারয় সমাস : যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
কিছু কিছু পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬২. নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) নির্জন (খ) পঞ্চবটী (গ) দেশান্তর (ঘ) অনুতাপ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : পশ্চাৎ (অনু) অর্থে 'পশ্চাৎ তাপ = অনুতাপ' হলো অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন- শহরের সদৃশ = উপশহর।
বিভিন্ন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ -
সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।
বীপ্সা (প্রতি, অনু): ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
অভাব (নিঃ, নির্): আমিষের অভাব = নিরামিষ।
পর্যন্ত (আ): পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।
সাদৃশ্য (উপ): দ্বীপের সদৃশ = উপদ্বীপ।
অনতিক্রম্যতা (যথা): রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
অতিক্রান্ত (উৎ): বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল।
বিরোধ (প্রতি): বিরুদ্ধে বাদ = প্রতিবাদ।
পশ্চাৎ (অনু): পশ্চাৎ গমন = অনুগমন।
ঈষৎ (আ): ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩. 'পকেটমার' কোন সমাসের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) পঞ্চমী তৎপুরুষ (খ) উপপদ তৎপুরুষ
(গ) প্রাদি সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : 'পকেট মারে যে = পকেটমার' উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস : কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে। যেমন-
| পকেট মারে যে | পকেটমার |
| বর্ণ চুরি করে যে | বর্ণচোরা |
| গায়ে পড়া এস্কো | গায়েপড়া |
| শিরো ধার্য যা | শিরোধার্য |
| দ্রুত গমন করে যে | দ্রুতগামী |
| জাদু করে যে | জাদুকর |
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৬৪. পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে কোন বহুব্রীহি সমাস হয়? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) সমানাধিকরণ (খ) প্রত্যয়ান্ত
(গ) ব্যাধিকরণ (ঘ) ব্যতিহার উ. ক
ব্যাখ্যা : সমানাধিকরণ বহুব্রীহি – যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| কালো বরণ যার | কালোবরণ |
| পোড়া কপাল যার | পোড়াকপালে |
| সমান উদর যার | সহোদর |
| বদ রাগ যার | বদরাগী |
| সুন্দর বর্ণ যার | সুবর্ণ |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৬৫. 'যৌবন সূর্য' কোন সমাস? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
(খ) দ্বন্দ্ব সমাস
(গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
(ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস উ. ঘ
ব্যাখ্যা : যৌবন সূর্য রূপক কর্মধারয় সমাস।
রূপক কর্মধারয় সমাস : উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে 'রূপ' শব্দটি অথবা 'ই' শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। এখানে 'মন' উপমেয় ও 'মাঝি' উপমান। কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
রূপক কর্মধারয় আরো কয়েকটি সমাসের উদাহরণ- যৌবন রূপ সূর্য = যৌবনসূর্য; ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র; কাল (মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ; পরান রূপ পাখি = পরানপাখি ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬. কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) আপাদমস্তক (খ) কথাসর্বস্ব
(গ) হতশ্রী (ঘ) অল্পবয়সী উ. ক
ব্যাখ্যা : অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ আপাদমস্তক।
অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
সামীপ্য (নিকট্য), বীপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। যেমন- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল।
নিম্নে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
| দিন দিন | প্রতিদিন |
| ক্ষণে ক্ষণে | প্রতিক্ষণে |
| আমিষের অভাব | নিরামিষ |
| সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত | আসমুদ্রহিমাচল |
| পা থেকে মাথা পর্যন্ত | আপাদমস্তক |
| শহরের সদৃশ | উপশহর |
| গ্রহের তুল্য | উপগ্রহ |
| বনের সদৃশ | উপবন |
| রীতিকে অতিক্রম না করে | যথারীতি |
| বেলাকে অতিক্রান্ত | উদ্বেল |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭. ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদকে কি বলে? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) পূর্বপদ (খ) পরপদ
(গ) সমস্ত পদ (ঘ) সমস্যমান পদ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে। যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য বা সমাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলা হয়। ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ। সমস্ত পদের প্রথম অংশ/শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ। সমস্ত পদের শেষ অংশ/শব্দকে পরপদ/ উত্তরপদ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮. সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বপদে বসে কোন সমাস হয়? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) বহুব্রীহি সমাস (খ) তৎপুরুষ সমাস
(গ) দ্বিগু সমাস (ঘ) কর্মধারয় সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : দ্বিগু সমাস – যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় তাকে 'দ্বিগু সমাস' বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়। যেমন- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
স্কুল পর্যায়-২
৬৯. 'কর পল্লবের ন্যায়'-ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (খ) উপমিত কর্মধারয়
(গ) উপমান কর্মধারয় (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : 'কর পল্লবের ন্যায়'- ব্যাসবাক্যটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।
উপমিত কর্মধারয় : যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিন্তু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন-
| কর পল্লবের ন্যায় | করপল্লব |
| পুরুষ সিংহের ন্যায় | সিংহপুরুষ |
| মুখ চন্দ্রের ন্যায় | চন্দ্রমুখ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০. 'জন্মান্ধ' কোন সমাস? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) তৎপুরুষ (খ) বহুব্রীহি (গ) কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. ক
ব্যাখ্যা : জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ; তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে এবং পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। যেমন-
| আগা থেকে গোড়া | আগাগোড়া |
| জন্ম হতে অন্ধ | জন্মান্ধ |
| রোগ হতে মুক্ত | রোগমুক্ত |
| ক্ষণ হতে মুক্ত | ক্ষণমুক্ত |
অনুরূপভাবে- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৭১. সমাস শব্দের অর্থ কী? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) সংক্ষেপণ (খ) সমন্বয়
(গ) দুর্বোধ্য (ঘ) ভাষান্তরকরণ উ. ক
ব্যাখ্যা : 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৭২. 'তপোবন' কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
(গ) প্রাদি সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : তপোবন = তপস্যার নিমিত্তে যে বন। এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লোপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। যেমন-
| তপস্যার নিমিত্তে যে বন | তপোবন |
| গুরুকে ভক্তি | গুরুভক্তি |
| আরামের জন্য কেদারা | আরামকেদারা |
| বসতের জন্য বাড়ি | বসতবাড়ি |
| বিয়ের জন্য পাগলা | বিয়েপাগলা |
| হজের জন্য যাত্রা | হজযাত্রা |
| পাগলের নিমিত্তে গারদ | পাগলগারদ |
| মরণের নিমিত্তে কাঠি | মরণকাঠি |
| শিশুর জন্য সাহিত্য | শিশুসাহিত্য |
| শয়নের নিমিত্তে কক্ষ | শয়নকক্ষ |
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৩. সমাস গঠন প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম কী? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) সমস্যমান পদ (খ) সমস্তপদ
(গ) ব্যাসবাক্য (ঘ) উত্তর পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৪. 'সিংহাসন' কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
(গ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন। এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় এর একটি উদাহরণ।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। যেমন-
| পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন | পলান্ন |
| সিংহ চিহ্নিত আসন | সিংহাসন |
| প্রীতিসূচক উপহার | প্রীতিউপহার |
| মৌ আশ্রিত মাছি | মৌমাছি |
| সাহিত্য বিষয়ক সভা | সাহিত্যসভা |
| ঘরে আশ্রিত জামাই | ঘরজামাই |
| সাম্য বিষয়ক বাদ | সাম্যবাদ |
| স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ | স্মৃতিসৌধ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৫. 'কালসাপ' কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) নিত্য সমাস (খ) দ্বন্দ্ব সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস (ঘ) কর্মধারয় সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : কাল (বিষাক্ত) তুল্য (যম) সাপ (কাল বর্ণের নয়) = কালসাপ; নিত্য সমাসের উদাহরণ।
নিত্য সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদ্বার্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়। যেমন-
| অন্য গ্রাম = gramantar | কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র |
| অন্য গৃহ = গৃহান্তর | তুমি আমি ও সে = আমরা |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬. কানে কানে যে কথা = কানাকানি- এখানে 'কানাকানি' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি (খ) ব্যতিহার বহুব্রীহি
(গ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি (ঘ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি উ. খ
ব্যাখ্যা : কানে কানে যে কথা = কানাকানি। এখানে 'কানাকানি' ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস : ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হয়। যেমন- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৭৭. কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) গৃহস্থ (খ) ছা-পোষা (গ) শতাব্দী (ঘ) প্রগতি উ. ঘ
ব্যাখ্যা : প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি। এটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
প্রাদি সমাস : প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস। যেমন-
| প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি |
| প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি |
| প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮. কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে কী বলে? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) উপপদ তৎপুরুষ (খ) উপমান কর্মধারয়
(গ) উপমিত কর্মধারয় (ঘ) নিত্য সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : উপপদ তৎপুরুষ সমাস : কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ; জাদু করে যে = জাদুকর; ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৯. 'অন্তরীপ' সমস্তপদটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি (খ) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
(গ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি (ঘ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি উ. গ
ব্যাখ্যা : 'অন্তরীপ'-এর সমস্তপদ = অন্তর্গত অপ (জল) যার; নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত।
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাস কোনো নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| দুই দিকে অপ যার | দ্বীপ |
| অন্তর্গত অপ (জল) যার | অন্তরীপ |
| নরাকারের পশু যে | নরপশু |
| জীবিত থেকেও যে মৃত | জীবন্মৃত |
| পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ | পণ্ডিতমূর্খ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮০. কোনটি নিত্য সমাসের সমস্তপদ? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) সেতার (খ) প্রত্যহ (গ) গ্রামান্তর (ঘ) সহোদর উ. গ
ব্যাখ্যা : 'গ্রামান্তর' - নিত্য সমাসের সমস্তপদ।
নিত্য সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন- গ্রামান্তর, দর্শনমাত্র, গৃহান্তর ইত্যাদি।
সে (তিন) তার যার = সেতার (বাদ্যযন্ত্র বিশেষ): সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।
प्रत्यह = প্রতি অহ (অথবা অহ অহ) : অব্যয়ীভাব সমাস।
সহোদর = সমান উদর (গর্ভ) যার (একই মায়ের গর্ভজাত) : সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮১. 'সংখ্যাবাচক' শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে কী সমাস বলে? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) দ্বিগু (গ) কর্মধারয় (ঘ) বহুব্রীহি উ. খ
ব্যাখ্যা : 'সংখ্যাবাচক' শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে।
দ্বিগু সমাস : সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮২. ব্যাস বাক্যের অপর নাম কী? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) যৌগিক বাক্য (খ) বিগ্রহ বাক্য
(গ) সমস্ত পদ (ঘ) সমস্যমান পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাস প্রক্রিয়ায় সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে বলা হয় সমস্তপদ। সমস্তপদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয় তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। ব্যাসবাক্য বিগ্রহবাক্য বা সমাসবাক্য নামেও পরিচিত। ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি পদ এক একটি সমস্যমান পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩. 'চাঁদের ন্যায় মুখ' = চাঁদমুখ কোন প্রকার কর্মধারয় সমাস? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) রূপক (খ) উপমিত
(গ) উপমান (ঘ) মধ্যপদলোপী উ. খ
ব্যাখ্যা : 'চাঁদমুখ'-এর ব্যাসবাক্য হলো = চাঁদের ন্যায় মুখ। এটি একটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৮৪. 'চৌচালা' কোন সমাসের উদাহরণ? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) বহুব্রীহি (খ) দ্বিগু (গ) তৎপুরুষ (ঘ) কর্মধারয় উ. ক
ব্যাখ্যা : 'চৌচালা' হলো সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'এ' যুক্ত হয়। যথা- দশ গজ পরিমাণ যার দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের। এরূপ- চারহাতি, তেপায়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫. সমাসের রীতি কোন ভাষা হতে বাংলায় এসেছে? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) হিন্দি (খ) সংস্কৃত (গ) প্রাকৃত (ঘ) ইংরেজি উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের সৃষ্টি। যেমন- দেশের সেবা = দেশসেবা; বই ও পুস্তক = বইপুস্তক; নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৬. 'উপভাষা' কোন সমাসের উদাহরণ? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) তৎপুরুষ সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) অব্যয়ীভাব সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : 'উপভাষা' অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলো:
| ভাষার সদৃশ = উপভাষা | বনের সদৃশ = উপবন |
| শহরের সদৃশ = উপশহর | গ্রহের তুল্য/সদৃশ = উপগ্রহ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭. 'রাজপথ'-এর ব্যাসবাক্য কোনটি হবে? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) পথের রাজা (খ) রাজার পথ
(গ) রাজা নির্মিত পথ (ঘ) রাজাদের পথ উ. ক
ব্যাখ্যা : 'রাজপথ'- এর ব্যাসবাক্য = পথের রাজা।
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
| দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত | মামার বাড়ি = মামাবাড়ি |
| ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত | পথের রাজা = রাজপথ |
| গোলায় ভরা = গোলাভরা | গাছে পাকা = গাছপাকা |
| অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু | ছেলেকে ভুলানো = ছেলেভুলানো |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
🛑 উপসর্গ 🛑
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ১ | ০ | ০ | ১৩তম | ০ |
| ১৭তম | ০ | ০ | ০ | ১২তম | ০ |
| ১৬তম | ০ | ১ | ০ | ১১তম | ০ |
| ১৫তম | ০ | ০ | ০ | ১০ম | ১ |
| ১৪তম | ১ | ০ | ০ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. উপসর্গ কোন জাতীয় শব্দাংশ? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) বিশেষ্য (খ) সর্বনাম (গ) অব্যয় (ঘ) বিশেষণ উ. গ
ব্যাখ্যা : ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশের নাম হচ্ছে উপসর্গ।
উপসর্গ : বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
i. খাঁটি বাংলা উপসর্গ, ii. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং iii. বিদেশি উপসর্গ।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ : বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ : বাংলা ভাষায় যেসব সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
বিদেশি উপসর্গ : আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। যেমন-
আরবি উপসর্গ : আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
ফারসি উপসর্গ : কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ : হর।
ইংরেজি উপসর্গ : হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২. বাংলা ভাষায় সংস্কৃত উপসর্গ কয়টি? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) ২২টি (খ) ২১টি
(গ) ২০টি (ঘ) ২৩টি উ. গ
ব্যাখ্যা : বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩. বাংলা উপসর্গ সংখ্যা কত? [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) বিশটি (খ) একুশটি
(গ) বাইশটি (ঘ) তেইশটি উ. খ
ব্যাখ্যা : বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
৪. বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) পরাকাষ্ঠা (খ) পরাক্রান্ত (গ) পরায়ণ (ঘ) পরাভব উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাভব, পরাজয়।
আতিশয্য অর্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
🛑 পদ-প্রকরণ 🛑
পদ ও পদের শ্রেণিবিভাগ: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় পদ ও ক্রিয়া পদ
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ০ | ২ | ০ | ১৩তম | ০ |
| ১৭তম | ০ | ০ | ০ | ১২তম | ০ |
| ১৬তম | ০ | ১ | ০ | ১১তম | ০ |
| ১৫তম | ১ | ১ | ০ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ০ | ১ | ০ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. "সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে" বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ? [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ
(গ) সর্বনাম (ঘ) অব্যয় উ. ক
ব্যাখ্যা : যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে। যেমন–
সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২. সাধুরীতিতে কোন শব্দটির দীর্ঘরূপ হয় না? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) বিশেষ্য (খ) সর্বনাম (গ) অব্যয় (ঘ) ক্রিয়া উ. গ
ব্যাখ্যা : ন ব্যয় = অব্যয়।
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
[উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণি বিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
৩. 'চন্দ্র'-এর বিশেষণ রূপ কোনটি? [১৮তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) চান্দ্র
(খ) চাঁদ
(গ) চন্দ্রা
(ঘ) চান্দ্রী
উওর: ক
ব্যাখ্যা: * 'চন্দ্র' এর বিশেষণ রূপ– 'চান্দ্র'।
'চন্দ্র' (বিশেষ্য) বলতে বোঝায়: পৃথিবীর উপগ্রহ— যা পৃথিবীকে মাসে একবার প্রদক্ষিণ করে।
'চান্দ্র' (বিশেষণ) চন্দ্র সম্পর্কিত।
'চন্দ্র'-এর সমার্থক শব্দ: চাঁদ, চন্দ্রমা, নিশাকর, নিশাকান্ত, শশধর, হিমাংশু, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, বিধু, শশী, সোম, মৃগাঙ্ক।
উৎস: অভিধান- বাংলা একাডেমি।
৪. কোন অব্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের পরে যুক্ত হয়ে বিভক্তির কাজ করে? [১৮তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) সংযোজক
(খ) সমুচ্চয়ী
(গ) অনুকার
(ঘ) অনুসর্গ
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: অনুসর্গ অব্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের পরে যুক্ত হয়ে বিভক্তির কাজ করে।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
অব্যয়ের প্রকারভেদ: অব্যয় প্রধানত চার প্রকার। যথা—
সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে। যেমন— ও, আর, বা, অথবা, কিন্তু, বরং ইত্যাদি। সমুচ্চয়ী অব্যয়কে আবার সংযোজক, বিয়োজক ও সংকোচক অব্যয়— এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
অনন্বয়ী অব্যয়: যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন—
উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
অনুসর্গ/পদান্বয়ী অব্যয়: যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যথা— ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (এখানে 'দিয়ে' অনুসর্গ অব্যয়)।
অনুকার অব্যয়: যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যেমন— কড় কড়, ঝম ঝম, কা কা, টুং টাং ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫. মরি! মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ–এখানে অনন্বয়ী অব্যয় কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে? [১৬তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) যন্ত্রণা
(খ) বিরক্তি
(গ) সম্মতি
(ঘ) উচ্ছ্বাস
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। এর দ্বারা উচ্ছ্বাস অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬. আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি? [১৫তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) আমটা খাও
(খ) সবাই এখানে আসুন
(গ) সুখী হও
(ঘ) নিজের দিকে খেয়াল রাখ
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: * আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ— আমটা খাও।
আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা বলে।
আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়। যেমন—
অনুরোধ: সবাই এখানে আসুন।
উপদেশ: নিজের দিকে খেয়াল রাখ।
প্রার্থনা: সুখী হও।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭. 'ভিক্ষুকটা যে পেছনে লেগেই রয়েছে, কি বিপদ!'-এ বাক্যের 'কী' এর অর্থ কোনটি? [১৪তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) বিরক্তি
(খ) রাগ
(গ) ভয়
(ঘ) হুমকি
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: 'কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না!'— এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে। তেমনিভাবে, 'ভিক্ষুকটা যে পেছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' বাক্যের অব্যয় পদটি (কী) 'বিরক্তি' অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।